তারুণ্যের শিল্প সরোবর ।। ধানশালিক ।। সংখ্যা ১০৮
বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০১৯
...
শব্দমিছিল : শোয়াইব শাহরিয়ার
শব্দমিছিল
শোয়াইব শাহরিয়ারপাখিপাহাড় আমার খুব কাছেই। সাগরের সাথে সঙ্গমের অপেক্ষায় পাহাড়। মাঝখানে আমরা ক’জন প্রেমিকসেনা দুলতে থাকি, ঘুরতে থাকি। আমরা সাগরের সাথে প্রথম সঙ্গমে লিপ্ত হই, তারপর পাহাড়ের সাথে সঙ্গমের জন্য দৌড়ে যাই। আমরা দৌড়াচ্ছি, পাহাড় ততক্ষণে পাখি হয়ে গেল। পাখির পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে আর কোনো প্রেমই রক্ষিত নেই। বুঝলাম- মৌনতার পেছনের যৌবন ঢেলে লাভ নাই।ভাগ্যনদীকে ভালোবাসি। নদী আমায়। আমাদের...
শব্দমিছিল : কৃষক মাহমুদ
শব্দমিছিল
কৃষক মাহমুদরাতের কথা নগ্ন বৃক্ষের ডাল ধরে দেখছি নদীর নান্দনিক স্রোত-নেমে দেখে নিতে চাই দুরত্বের জাদু বাকসো;অকৃত্রিম নৈসর্গিক আপেল দ্বীপ আর আবাদি জমি দরজা অলিগলি-দ্বীপে হাত বুলিয়ে চেটে যায় বৃক্ষের তল পেট।তোমার হাত ধরে উঠে দাড়ায় কাল কিয়ামতের কাধে...তোকে পুতে দিব বৃক্ষ বুকে, পরিচয় গিলে খাবে তোর শরীর আর মুহুত্রে হয়ে উঠব পিতা,একজন শোষিতের গল্প- যে আলো আধারে ও গোধুলী প্রভাতেও শোষিত - একটা...
শব্দমিছিল : লাবন্য শাহিদা
শব্দমিছিল
লাবন্য শাহিদাপ্রেমিকাদিব্যি নিলুম ছুঁয়ে শিরা ধমনিকাপরের জন্মে হব মনের মত প্রেমিকাআজকে যখন বিষাদ ছুঁয়ে বলিস,তুই বরঞ্চ বাচ্চামো টা ছাড়িস!তখন চোখ টা ভাসাই স্রোতেজানতে পারিস কি তা কোনো মতে?নতুন মানুষ বোঝে কি ভালো?ছিলাম যখন তোর আবেশে কালোবৃষ্টি ছিল মফস্বলের রেলেছুট লাগাতাম সেই হুল্লোড় বেগেঅভিযোগের সাতটি প্রহর শেষে পাহাড় ভাঙ্গে গর্জন আর মেঘেতেআচ্ছা বলি,এখনো কি রেগে করিস তাণ্ডব?ধৈর্য নিতুম...
ধারাবাহিক উপন্যাস : উর্মিলা নগরে থাকে : পর্ব ১৩
(গত সংখ্যার পর)
দীপু ভাই অবুঝ কণ্ঠে বলে, ‘দেবী, জনম জনম কাঁদিব।’সন্ধেবেলা জাকির সাহেব আসে বাবাকে নিয়ে। শুভপুর থেকে বাবা এসেছে পত্রিকায় বেবী আপাকে জড়িয়ে ধরা ছবি দেখে। পত্রিকায় যেভাবে লিখেছে তাতে উর্মির জীবন বিপন্ন। বসন্ত পাল অতি সাধারণ মানুষ। কন্যার সংবাদে ছুটে এসেছেন।বাবাকে দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে উর্মিলা। স্যালাইনের হাত দিয়ে বাবাকে ধরতে যায়। জাকির সাহেব বলে, ‘অস্থির হইও না। উনি বয়স্ক মানুষ...
একজোড়া আঙ্গুলের বাঁধন
একজোড়া আঙ্গুলের বাঁধনইয়াকুব শাহরিয়ারবাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ভার্সিটি গেইটে গিয়ে দাঁড়াই। বাসস্ট্যান্ড থেকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় খুব কাছে। পূজোর বন্ধ শেষ হয়েছে। কাল থেকে ভার্সিটি খোলা। সকল শিক্ষার্থীরা হলে ফিরতে শুরু করেছে। তাই গেইটের সামনে প্রচ- ভিড়। ভিড় বলতে হল পর্যন্ত যেতে যে টমটম বা রিকশা পাওয়ার কথা সেটা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে পায়ে হেঁটেই যাচ্ছে। বেশি দূর হবে না। এক কিলোমিটার হবে। নরমালি...
পাপ
পাপরুহুল আমিন রাকিবপৃথিবীটা গোলাকার জীবন চলার পথে হঠাৎ আপনার সাথে দেখা হতে পারে শৈশবের প্রিয় বন্ধু। তরুণ বয়সের সেই প্রিয়জন! জীবনের বাঁকে বাঁকে, জড়িয়ে আছে কত স্মৃতি! কত হাসি গান, কাঁন্না বেদনা! রাজু সুঠাম দেহর অধিকারি প্রাণবন্তময় এক হাস্যজ্জল তরুণ।কত হবে বয়স তেইশ, চব্বিশ, দেখতে শুনতে খুবই স্মাট। সব সময় নতুন নতুন শার্ট, প্যান্ট পরে। চোখে কালো সানগ্লাস, হাতে ডিজিটাল মডেলের হাত ঘড়ি পায়ে দামি চামড়ার...
দাগ
দাগজেলী আক্তারপড়শু বিয়েটা সাইড়া ফালাইতেই হইবো, নয়তো পোলাডা হাতছাড়া হইবো-খুব জোড়ে সোড়ে বললো- কেরামত ঘটক।সব কোণার ঘরটায় শুয়ে শুয়ে বালিশ ভিজিয়ে ফেলছে করিম মিয়া। শিমুল তুলোর তৈরী করা তুলতুলে বালিশটা চোখের জলে ভিজতে ভিজতে কডকডে মাথায় দিয়ে আজ কাল স্বস্তি নেই।করিম মিয়া ভাবছেÑ ‘মাইয়াডা বড় হইতেছে ভাল একটা সম্বোন্ধো পাইলাম হাতে টেহা পয়সা কিচ্ছু নাই কেমনে কি করবো। আর একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়তেই কেরামত...
এবং প্রথমা
এবং প্রথমাহরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূরে চলে এসেছিল ওরা। প্রথমা আর বিতান। দু’জনের চেনাজানা এমন একটা স্তরে পোঁছায় নি যার ওপর ভর করে অচেনায় পা বাড়ানো যায়। তবুও কেন জানি না প্রথমার মনে হয়েছিল মানুষটাকে পথ চিনে নিতে ডাকা যায়। অনুমান ভুল ছিল না। অনেকটাই পথ হেঁটেছিল দুজনে। অনেকটা...
চোর
চোরকিশলয় গুপ্তখবরটা দাবানলের মতো সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লো। প্রাইমারী স্কুলের হেড মাষ্টার বিনয়বাবু মিড'ডে মিলের চাল পাচার করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। স্কুল কমিটির সেক্রেটারী নিজে ধরেছে। গোটা গ্রাম ছি ছি করছে । বাচ্চাদের মুখের খাবার যে কেড়ে নেয় সে আবার মানুষ নাকি? আপাতত চোরের ঠিকানা হাজতে....পঁচিশ বছর বিনয়বাবু কে চিনি। যে মানুষটার মাস মাহিনার এক চতুর্থাংশ বেরিয়ে যায় অন্যের কাজে সে বাচ্চাদের মিড’ডে...
রোমাঞ্চকর সন্ধ্যা
রোমাঞ্চকর সন্ধ্যাআনোয়ার রশীদ সাগরসূর্যটা পূর্বদিকে ডুবেই যাবে, বিকেল ছাড়িয়ে গোধুলী ছুঁই ছুঁই করছে। এখন তো আর মাঠের মাঝ বেয়ে দূরে কোথাও রাস্তাও দেখা যায় না, একদল গরু ধূলা উড়াতে উড়াতে বাড়িও ফিরে না।শুধুই যেন স্মৃতিকথা।গ্রামের উত্তর মোড়ে সপ্তায় দু’দিন হাট বসে। সে হাটকে ঘিরে ছোট ছোট টোঙ দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছে অনেকেই। প্রায় গ্রামেই এখন হাট বসে, তাই এক গ্রামের লোক অন্যগ্রামে যাওয়ার...
ভালবাসার এক মূহুর্ত
ভালবাসার এক মূহুর্তখোরশেদ আলম খোকনসে দিনই প্রথম কথা হয়েছিল মিনার সঙ্গে... আমাকে খুব ভালবাসে। আমাকে না পেলে নাকি ও বাঁচবেনা! কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই... ঘুম এসে গেল চোখে। আমার পাশে ঘুমিয়েছিল দিলুও।হঠাৎ করে দিলু বলে উঠলো-এই তাজ! মিনা তোকে সত্যি খুব ভালবাসে।-তুই পাগল একটা, শুধু’ই কি তাই! মিনা আমাকে কী বলেছে জানিস?-আবার কি বললে শুনি?কয়দিন পরই নাকি বাসর সাজাবে ওহ্...এখন শুধুই সে দিনটির অপেক্ষা!চিৎকার...
অভাব
অভাবমোহাম্মদ জসিমগাঢ় সুন্দর গায়ের রঙ, আটাশটা চকচকে দাঁত (তিনটা কালচে, একটা নাই), প্রমাণ সাইজ দৈর্ঘ্যে সবল ও স্বাস্থ্যবান- এই হইলাম আমি।আমারে কিনুন।বিজ্ঞাপন টানাইয়া দিলাম, শহরের আনাচ কানাচ, দেয়ালে, গাছে, এইহানে ওইহানে। নিয়ম কইরা সকাল সন্ধ্যা বটতলায় দাঁড়াইয়া থাহি, ওইডাই দোকান। নিজেরে বেইচা দিমু।বিজ্ঞাপনের আছড় ভালমতোই পড়তাছে। লোকজন আইতাছে, দরদাম করতাছে। কিন্তু, সমস্যা হইতাছে গিয়া কেউ পুরা শরীরডারে...
কে বড়?
কে বড়?অনিকেত রায়দৃশ্য ১:বিস্তৃত ন্যাড়া মাঠ, মাঝ বরাবর দু’টি আলাদা আলাদা মঞ্চ। একটিতেগেরুয়াধারী, মু-িতমস্তক গুটি কতক ব্রাক্ষ্মণ, অন্যটিতে চাপদাড়ি, মাথায়টুপিওয়ালা সম সংখ্যক মৌলবী। দু’দলই নিজ নিজ ভাবে স্ব স্ব আরাধ্যের বাস্তবিক প্রতিষ্ঠায় তর্জন গর্জন করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই মঞ্চের সম্মুখেই সমপরিমাণভিড়, দু’দিকেরভিড়েই কোন অন্য ধর্মের মাছির অনুপ্রবেশ ঘটে নি।শেষ এক ঘণ্টা উভয় ধ্বজাধারীরাই শ্রোতাদের...
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)