তারুণ্যের শিল্প সরোবর : : ধানশালিক : : সংখ্যা ১৩৪
শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২০
...
সূর্য গ্রহণ নিয়ে গ্রামীণ কুসংস্কার
সূর্য গ্রহণ নিয়ে গ্রামীণ কুসংস্কার
ওবায়দুল মুন্সী
সূর্য গ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে কত যে মিথ ছড়িয়ে আছে তা আমাকে এখনো ভাবায়। আমাদের হাওরাঞ্চলে সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের আঞ্চলিক নাম হচ্ছে ‘গন্না’। অনেকেই বিশ্বাস করতেন যে এই গন্নার সময় কোনো কাজ বা খাওয়া-দাওয়া করতে নেই। কারণ-এই সময় এসব করলে নাকি অমঙ্গল হয়। গর্ভবতী মহিলাদের গ্রহণকালে সুপারি কাটা, মাছ কাটা একথায় কোনো কাটাকুটি করা যাবে না! এসময় কাটাকুটি...
শব্দমালা : মোহাম্মদ ইমাম হোসেন
শব্দমালা
মোহাম্মদ ইমাম হোসেন
ওহে প্রেমিক! রজনী যে তোমার যায় যে বয়ে!
ওহে প্রেমিক, বসন্তের রাত্রি বয়ে যাই,
মনের মাঝে মধুরাত্রের দোল খেলে যায়
তুমি আছো দীর্ঘ চিন্তামগ্ন হয়ে,
ঐদিকে তোমার লগ্ন বয়ে যাই,
দীর্ঘশ্বাসে তোমার অতিত ভুলে
তোমার অপ্রস্ফুটিত ভাষণা গুলোকে
অবকুন্ঠিত কুন্ঠিত জীবনে হেলা কর না,
জীবনকে সদ্য ফুটন্ত লাল গোলাপের মত না ফুটিয়ে তুলে
এই মূল্যমান রজনীকে চলে যেতে দিও না।
ওহে প্রেমিক! রজনী...
শব্দমালা : এনাম রাজু
শব্দমালা
এনাম রাজু
আপনালয় এই দেশের নিরাপদ জেল
তোমরা বেহুশ হয়ে ঘুমাইও না
নিদ্রা ভেঙে গেলে দেখবে ঢুকে আছো
ডিমের ভেতর...
হয়তো ভেবে নিবে
সে আর এমন কি.
জেনে নিও বেহুলার ঘরের মতোও খুঁজে পাবে না
কোনো নিঃশ্বাস গাছ
কেননা তোমরাই বন্ধ করেছো শুইয়ের দরজাও।
তোমরা ঘর থেকে বের হইও না
কেননা আপনালয় এই দেশের নিরাপদ জেল
এখানে চিরায়ত নিয়মে মৃত্যু আসে।
সহজকে গ্রহণ করো,
সারিবন্ধ হও ধানক্ষেত কিবা আলুর আইলের মতো
অন্তত...
প্রচ্ছদগল্প : চশমার পা
চশমার পা
ইব্রাহীম রাসেল
চশমার দুই পায়ের এক পা কে ভেঙেছে এই নিয়ে মেছের মধ্যে হুলস্থুল কা-। মিজান মামা তার খাটে বালিশের পাশে চশমাটা খুলে রেখে গোসলে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে চশমার এই হাল দেখে চিৎকারে পুরো মেছ মাথায় তুললেন। রুমের সবাইকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। বাড়িওয়ালার কাছে নালিশ জানাবেন-কেন এই ধরনের অভদ্র ব্যাচেলরদের তিনি রুম ভাড়া দিয়েছেন? মিজান মামা চেঁচামেচি করেই যাচ্ছেন। রুমের সাবাই স্বাভাবিক যে যার...
দু’টি অণুগল্প : আরিফুর রহমান
দু’টি অণুগল্প
আরিফুর রহমান
ম্যাজিক লেন্স
-ও চা-চা, ক্যামন আছেন?
আলম সাহেবের কাছাকাছি এসে দু’জন যুবকের একজন বেশ জোরেসোরে প্রশ্নটা করল। তিনি বিরক্ত হলেন। কিন্তু মুখে সে ভাব প্রকাশ করলেন না।
-আপনার চোখে এমন চশমা ক্যান? অনেকটা ওই চোখের পাওয়ার পরীক্ষা করা ডাক্তারের মতো। আবার হাতে হোমিও ডাক্তারের ছোট্ট বাক্সও দেখি!
আলম সাহেবের বিরক্তির মাত্রা বাড়ল। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর হঠাৎ পিঁপড়ার প্রতি তাঁর...
কোন আলো লাগল চোখে...
কোন আলো লাগল চোখে...
আহাদ আদনান
ভালোই তো ছিলাম। নিজের মত করে সাজানো পৃথিবী । তাতে সারাটা দিন উথালপাতাল সাঁতার। অবশ্য দিন রাতের ব্যাপারটাই ছিল না। মন্দ ছিলাম না। খাওয়ার চিন্তা নেই, ঘুমের চিন্তা নেই, কোন দুঃখ নেই (সমান্তরালে কোন সুখও নেই)। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা, ক্লান্তি শব্দগুলোই ছিলনা অভিধানে। কোন অভিধানই ছিলনা হয়ত।
আমার দৃষ্টি শক্তিও ছিলনা সেই দিনগুলোতে। চোখ দুটো ছিল বুঁজে। তার...
ধারাবাহিক উপন্যাস : অনিঃশেষ অন্ধকার : পর্ব ০৪
অনিঃশেষ অন্ধকার
আবুল কালাম আজাদ
[গত সংখ্যার পর]
৮.
সত্যিই জায়গাটা মুগ্ধ হবার মতো। বিরাট জলাশয়। তাতে টলটলে জল। জলে তেলাপিয়া মাছ ভেসে থাকে। মানুষের সাড়া পেলে ঝুপ করে শব্দ তুলে একযোগে ডুব দেয়। সেই জলের ওপর রিসোর্ট। ঘরগুলো আলাদা আলাদা, যেন অনেকগুলো নৌকা ভাসছে। ঘরগুলো কাঠের। প্রতিটা ঘর সুন্দর করে সাজানো। ঝকঝকে, তকতকে বিছানা, বালিশ। ড্রেসিং টেবিল, আলমারি, সোফাসেট, স্যাটেলাইট সংযোগসহ টিভি, সিডি প্লেয়ার...
ধারাবাহিক সায়েন্স ফিকশন : ক্রাইটেরিয়ন : পর্ব ০৪
ক্রাইটেরিয়ন
সৌর শাইন
[গত সংখ্যার পর]
সকাল দশটায় মিজান মিয়া এসে হাজির। জানাল, তার বাবার চিকিৎসা চলছে। বাজারে যাবে বলতেই, ওকে টাকা দিলাম, দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। মিজান মিয়া তড়িঘড়ি চা বানিয়ে দিয়ে বাজারে চলে গেল। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ভাবছি গতরাতের কথা। নীলা ও আমি ঘুরে বেড়িয়েছি গভীর শাল-গজারি বৃক্ষের সুবিশাল সাম্রাজ্যে। আমাদের যুগল জীবনে এমন একটি অ্যাডভেঞ্চারময় দিন আসবে,...
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)