ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ১০৫

ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ১০৫
তারুণ্যের শিল্প সরোবর ।। ধানশালিক ।। সংখ্যা ১০৫ বৃহস্পতিবার, ০৩ জানুয়ারী, ২০১৯ DHANSHALIK YOUTUBE CHANNEL : https://www.youtube.com/channel/UCvalpdS1Kp_2lW5-Qibzzpw ...

শিশুটি কি মুক্তিযোদ্ধা ছিল ?

শিশুটি কি মুক্তিযোদ্ধা ছিল ?
শিশুটি কি মুক্তিযোদ্ধা ছিল ? মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ । রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। উত্তাল জনসমুদ্র। সেখান থেকে কালজয়ী এক উচ্চারণ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ।’ এরপর ২৫ মার্চ হানাদাররা চালালো অপারেশন সার্চ লাইটের নামে গণহত্যা। রক্তাত্ত হলো বাংলার আকাশ, মাটি আর পানি । চোখ দিয়ে শুধু দেখা যায় লাশ আর লাশ। শহীদদের পবিত্র...

ধারাবাহিক উপন্যাস : উর্মিলা নগরে থাকে : পর্ব ১০

ধারাবাহিক উপন্যাস : উর্মিলা নগরে থাকে : পর্ব ১০
(গত সংখ্যার পর) ‘আমাকেও তো ও কিছু বলেনি।’ রুবী বলে। ‘এই মেয়ে, না বললে কিন্তু বিরিয়ানি পেটে থেকে টেনে বের করব।’ নাজনীন আপা বলে। ‘দিদি, সত্যি আমি তাকে কিছুই বলিনি। বাড়ি থেকে নগরের জন্য ট্রেন ধরব বলে বাবাকে প্রণাম করতে গেছি তখন তাকে কথা দিয়েছি নিজকে রক্ষা করার যোগ্যতা যেন ঈশ্বর আমায় দেন।’ ‘ঈশ্বর বেছে বেছে তোমাকে দিয়েছেন। আমাদের দেবেন না।’ মিতালী হতাশ কণ্ঠে বলে। ‘নিশ্চয় দেবেন।’ ‘তুমি সঠিক কথা বললে...

শব্দমিছিল : স্নিগ্ধা বাউল

শব্দমিছিল  : স্নিগ্ধা বাউল
শব্দমিছিল স্নিগ্ধা বাউল পাল যতগুলো কবিতায় মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে শুষ্কতার সঙ্গে এসেছে রুগ্ন পাতা খসার শব্দ তাদের ঘুমের গান আঙ্গুলের শীতলতম স্থবিরতায় কফিনের পেরেক আর কিছু চিমনির শরীরের ধোঁয়ায় চলে যাবার গল্প; ধবধবে কাফনের শুভ্রতম কবিতা  অবাক সুন্দর ছিল ওখানে মৃত্যু! জীবন- খুরাকি এখানে আমি,  প্রতিদিন জানালায় আমি ভোর দেখি  অদ্ভুত ভালোলাগায় আবিষ্কার করি নিজেকে; পর্দা দুলে...

শব্দমিছিল : শঙ্খচূড় ইমাম

শব্দমিছিল : শঙ্খচূড় ইমাম
শব্দমিছিল শঙ্খচূড় ইমাম ঈর্ষাপুর ফলত ক্ষেতের মরটশুঁটিতে যে ঢেউ লেগে থাকে তা ভরদুপুরের বিরাম চিহ্ন। একটা ঘুঘুর কথাই ধরো- শোকাচ্ছন্ন দিনে তার কোনো মৃত্যু নেই। কোনো হাসপাতাল নেই। একরোখা দূরত্বে যেতে যেতে ফ্লাশ নেয় নিজের শহরে। তবু আয়নার মতো বস্তু তার কাছে সর্বদাই নস্যি। কেননা সে জানে, যে কৃষক মাটি খুঁড়ে এনেছে এই মটরশুঁটি সে কেবলই ভেঙে যায় রুই-কাতলার দেশে। আমাদের ঘৃণা আছে, ক্রোধও। এসব লাল ফিতার...

শব্দমিছিল : বেবী সাউ

শব্দমিছিল :  বেবী সাউ
শব্দমিছিল বেবী সাউ  শিল্পী ধারালো ছুরির কাছে আমার সমস্ত উপাসনা তুলে ধরি মৃদু নুপূরে বাজে শহরের চাঁদ মন্দিরের নকশা নতজানু চোখে দেবী হয়ে উঠি গিটারের তারে ক্ষতধরা হাত কল্পিত ভুলের মাশুলে জেগে ওঠে প্রেমবাক্য তোমার দলমার ছায়াচিত্রে নিপুণ কৌশল সীমাবদ্ধ উৎসবে নুন-দাগ মানগো ব্রীজে ঝুলতে থাকে শিকারীর পোষা আত্মহত্যা হাততালি দেয় ক্ষুধিত পৌরুষ অলকানন্দা ভরে আছে ঘাম রক্তজলে নিদারুণ হাজার...

শব্দমিছিল : নকিব মুকশি

শব্দমিছিল : নকিব মুকশি
শব্দমিছিল নকিব মুকশি গান ও নৃত্য ঝরে যদি- কাপড় নিংড়ানোর কৌশল—স্ব-তিমি, জটাভুল... তীরের ছায়ায় জ্বর ও ফেনার রশ্মি- হাওয়া গান জাগে যদি- সমস্ত মীনও ঢেউয়ের মৃদুস্বর- ঘড়িফুল তবে সমস্ত ভৈরব জুড়ে তখন যুগপৎ- বসন্ত-বর্ষার দ্বৈরথ- ফুলপাতা ও কোরকের বান কুয়োর পাতা ও ঘাসে- মাছের স্নান শুঁকিয়ে ফেলে সমস্ত গন্ধও প্লাবন গানও নৃত্যের ক্লাইমেক্সে ঢলে পড়ে কুয়াও ফল, দিনের সমস্ত মুরোদ দিনভর রাতেরা ঘুমায়, আর...

শব্দমিছিল : রবিউল আলম নবী

শব্দমিছিল : রবিউল আলম নবী
শব্দমিছিল রবিউল আলম নবী বিশ্বাস বিশ্বাস করতে করতে মরে যাবো বলেই এ তল্লাটে এসেছিলাম। নদী ভেঙে গেছে, কথা রাখেনি পার। পার বেঁকে গেছে, কথা রাখেনি নদী। তাই বলে কি বিশ্বাসেও বাঁক নেবো আমি? নিইনি। হয়তো কোথাও একটা পাহাড় আছে। তার ভেতর জমছে আদ্যিকালের দুঃখ। একদিন ফেটে যাবেই। কী মিরাকল ঘটবে ভাবতে পারছো? নিশ্চয়ই একদিন সে জলধারা নদী হয়ে ছুটে আসবে এ তল্লাটে। দেখবে আমার পার বাঁকেনি। আমার নদী ভাঙেনি। এরপর...

শব্দমিছিল : অয়ন আহমেদ

শব্দমিছিল : অয়ন আহমেদ
শব্দমিছিল অয়ন আহমেদ বন চলে আসে রক্তিম শরাফ কাচ বনে বিঁধে আছে কোথায় দুপুরের মনের ভিতরে চকচকে- আকাশ-ফলার তরুণী এক আঙ্গুলের সলতেতে রমণী ঘুরায়, চাবিগুচ্ছের মতো, দ্যুতির ঢঙের ভিতরে। মুদ্রায় দরোজার অলিক ফালি রূপে খুলে গেছে। তবু মেঘের গভীরে বিমানের জেটের আওয়াজ শব্দদের ফালে বেরোয়। সুতির্যক সুচির পিন-রমণী। চিঠি ডাকে পিয়নের দৈর্ঘ্যের আলোয়। ভোর-ভোর বন চলে আসে। মিতালীটা চা খেতে খেতে খেতে খেতে চা বাষ্পের...

শব্দমিছিল : মঈন মুনতাসীর

শব্দমিছিল : মঈন মুনতাসীর
শব্দমিছিল মঈন মুনতাসীর শিশমহল-২ এই অনভ্যস্ত জীবন আমার কাম্য ছিলো না। আমি অভ্যস্ত ছিলাম না রক্তপানে, অভ্যস্ত ছিলাম না আকাশের বৈরিতায়। মাথায় বর্ম লাগিয়ে যুদ্ধ করায় আমি একেবারেই অনভ্যস্ত। শুশুকের কসম, যখন তারা ভেসে ওঠে আর শ্বাস নেয়। চাঁদের সাথে সঙ্গমে একেবারেই অনভ্যস্ত আমি! শিশমহল-৩ ভক্ত-মুরিদ থাকলে যদি উঁচু হয়ে যায় সুফিবাদি সমাধি- আমাকে কবর দিও মাটির দুই আস্তরণ নিচে। আর জেনে রেখো- শুদ্রই...

শব্দমিছিল : নাজমুল আহসান

শব্দমিছিল : নাজমুল আহসান
শব্দমিছিল নাজমুল আহসান গোলাপের মতো ফুলে উঠি গোলাপের মতো ফুলে উঠি কিস্তির পাটাতন ভেঙে গেলে নিলামে বিক্রি করে দেই যাযাবর জীবন কে যেন বলেছিলো শ্যাওলার মতোই তো ছিলে কেন বেছে নিলে পতঙ্গ এমন অবারিত সবুজের মাতাল সৌরভে সেই থেকে লেগে থাকে বিষাদ এমন কে আমি- কবে থেকে জানতাম; ভুলে গেছি জেনে গেছি সেই থেকে স্মৃতিরা এমন ব্যথাতুর বেদনার আর্তি কি সব আগুন জীবন কি সব আগুন জীবন মমতার মতো কোমল, আর- কবিতার...

শব্দমিছিল : মঈন ফারুক

শব্দমিছিল  : মঈন ফারুক
শব্দমিছিল  মঈন ফারুক আমার দাঁড়ানোর অভ্যেস ছোটবেলায় মার্বেল খেলার চত্বরে আমার দাঁড়ানোর অভ্যেস- দেখতাম, পদস্থলের চিহ্ন থেকে ছোড়া মার্বেল দূরত্ব উজিয়ে গন্তব্যের দিকে ধীরেধীরে গর্তের মুখে অগ্রসর হয়ে চারিদিকে পাক খাচ্ছে, কার্ণিশে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। আমাকে বড়বেলায় পৌঁছে দিচ্ছে মার্বেল- যেমন আমার চোখ দাঁড়াতো গর্তের চারপাশে, যেমন পরাবাস্তবতা টেনে নিয়ে যাওয়া আমার অভ্যেস; এখন বড়বেলায় গড়িয়ে...

শব্দমিছিল : মাহমুদুর রহমান

শব্দমিছিল : মাহমুদুর রহমান
শব্দমিছিল মাহমুদুর রহমান জন্মদিন শৈশবের একটি জন্মদিনে মা আমার বাম গালে চুমু খান এবং আমাকে একটি রঙীন কাগজে মোড়া সমুদ্র উপহার দেন। যার উপরের ট্যাগে লেখা- আবেগ। বাবা আমার পিঠ চাপড়ে একটি পাহাড় উপহার দিলেন। আর বললেন- ওর ডাকনাম আত্মবিশ্বাস। ওকে কখোনো হারিয়ে ফেললে এই সমুদ্রে ভেসে যাবি।  আজ বহুকাল আমি আমার পাহাড় ও সমুদ্রকে খুব নির্জনে আগলে রাখছি। সম্প্রতি আমি খুব উদ্বেলিত এই পাহাড় ও সমুদ্রকে...

শব্দমিছিল : রোমেনা আফরোজ

শব্দমিছিল : রোমেনা আফরোজ
শব্দমিছিল রোমেনা আফরোজ শরণার্থী জীবন জীবনের ভেতর আরেকটা জীবন, যেখানে বয়স বাড়ে না।  পৌঢ় বলতে ওখানে কোন শব্দ নেই। সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে  প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। ভীষণ আঁকাবাঁকা রাস্তা। এ পাশ থেকে বোঝা যায় না বাঁকের অন্যপাশে ঠিক কী আছে, কতটা অন্ধকার! তবুও থামার লক্ষণ নেই। চলছি তো চলছি। একা একা। তুমি বলতে এত দিন যাদের বুঝেছি, তারা যেন সোনার হরিণের খোঁজে। এতটা বস্তুবাদী মানুষ কী করে হয়! এই...

শব্দমিছিল : কবির কল্লোল

শব্দমিছিল : কবির কল্লোল
শব্দমিছিল কবির কল্লোল ধরো ধরো এই হাত দু’টি, আর ধরো পা ধরো মানে মনে করো, হাতেনাতে না ধরো প্রিয় হাত নেই, পা-ও গেছে কেটে ধড় আছে, মাথা নেই, পেট গেলো ফেটে কিংবা মাথাটা আছে, ভুঁড়িটুড়ি নাই ধরো বেল টুপ করে পড়লো মাথায় মাথা আছে, হুশ নেই, মাথার কী কাজ? মাথায় পরানো হলো হীরকের তাজ ধরো এক চোর এলো, তাজ নিতে গিয়ে ভুল করে চলে গেলো মাথাটাই নিয়ে তোমার কিছুই নেই- রক্ত.. মাংস.. হাড়.. পড়ে আছে রেখে যাওয়া...

শব্দমিছিল : দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম

শব্দমিছিল : দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম
শব্দমিছিল দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম সীমান্ত যে রকম একদিন সীমান্তকে মনে হত পাঁচিল। উঠোনের পর বিস্তার একদিন যারা এখানে বিকেলের আসর মাতিয়েছিলো তাদের মুখ ঠোঁট দেখে মনে হত পড়শি মুখচ্ছায়া অলস সমুদ্রের ভাষা তারাও জানে। তারাও কথা বলে শূন্যে ভাসমান, আর হাওয়া টেনে নিয়ে যায় বহুদূরে... যে শুনিয়েছিল পরপর বিবাহ বাসর আর শূন্যতা ঊৃষ্টি নামা দিঘিতে জলের সুঘ্রাণ, পাশ ধরে চলা নীরবতা, তার মুখ আজ যদি মনে করি, একটি...

শব্দমিছিল : পলিয়ার ওয়াহিদ

শব্দমিছিল  : পলিয়ার ওয়াহিদ
শব্দমিছিল পলিয়ার ওয়াহিদ নিরাকার আমি যার প্রেমে পড়ি- তার আছে ফলের দোকান যে আমার প্রেমে পড়েছিল- তিনি এক মাংসের দোকানী আমাদের ভালোবাসার যিনি মালিক- তার আছে পাখির আড়ৎ খাঁচার স্কুলে তাই ভর্তি হচ্ছে পালক! রোদের দিকে মুখ করে বসো তুমি একটা নকল মানুষ বন্ধু নিজের দিকে তাকিয়ে হাসো রোদের দিকে মুখ করে বসো শীতের দিকে খানিকটা হেঁটে যাও তোমার দোচালা ঘরের বারান্দায় স্বর্গীয় স্মৃতির পায়চারি বাড়াও সবাই...