মহেশখালি বাঁকের জল রঙের এক কিশোরের গল্প

মহেশখালি বাঁকের জল রঙের এক কিশোরের গল্প


মহেশখালি বাঁকের জল রঙের 
এক কিশোরের গল্প 

খালিদ খলিল 


খু বেশি লোকে চেনে না এই কিশোরকে। না চেনার কারণ- কিশোর ছেলেটির বসবাস এক নিভৃত পল্লীতে। কিন্তু প্রতিভা কখনোই সুপ্ত থাকে না। থাকে না বলেই এই কিশোর ইতোমধ্যে গুণিজনের নজর কেড়েছেন। যেমন কবি নির্মলেন্দু গুণ ছেলেটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কবি গুণ তাঁর বইয়ের একটি প্রচ্ছদে ছেলেটির আঁকা ছবি ব্যবহার করেছেন।


ছেলেটির নাম আর করিম। মানে রেজাউল করিম । কক্সবাজার জেলার মহেশখালি উপজেলার পুটিবিল্যা খুইশ্যামার পাড়ার বাসিন্দা। সবে তেইশ বছরের টগবগে তরুণ। নেশা ছবি আঁকা, গান করা। দু’মাধ্যমেই- বিশেষ করে ছবি আঁকায় সে এখন বিস্ময়! কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই আজ সে পুরোদস্তুর একজন চিত্রশিল্পী। স্কুলের পাঠ্যবইয়ে হাশেম খানের আঁকা ছবি দেখে ছবি আঁকার নেশায় নাম লেখান করিম। সে থেকে গ্রামীণ প্রকৃতি আর গুণিজনের প্রতিকৃতি এঁকে চলেছেন। তাঁর ক্যানভাসে প্রকৃতির রূপ, রস, মাধুর্য ধরা দেয় জীবন্ত হয়ে। এখন পর্যন্ত প্রকৃতিই তাঁর ছবি আঁকার শিক্ষক । ইচ্ছে আছে চারুকলায় পড়ার ।


শুরু করেছিলাম কিশোর ছেলে করিম এর গল্প দিয়ে । এখন দেখা যাক তরুণ, মেধাবী ও পরিশ্রমী চিত্রকর করিমকে। শিল্পী করিমের সকালটা শুরু হয় প্রকৃতির বিছানো চাদরে বসে। যেখান থেকে প্রকৃতির সবটুকু রুপ রস সৌন্দর্য যেনো ছেঁকে তুলে আনতে চান তাঁর ক্যানভাসে। শিল্পী করিম এর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, চারুশিল্পী না হলে কি হতেন? তাঁর সাফ জবাব- ‘আমি ছবিই আঁকতাম । আমাকে দিয়ে অন্য কিছু হবে না। ছবির মাঝেই আমি বেঁচে থাকতে চাই’।

উচ্চ মানের গুড়া রঞ্জকের সাথে এ্যারাবিক গাম ও গ্লিসারিন মিশিয়ে অর্থাৎ জল রঙে ছবি আঁকতেই স্বচ্ছন্দবোধ করেন করিম। চেষ্টা করেন প্রকৃতি আর মানুষের মাঝে নিজেকে সোপর্দ করতে। আকাশ, জল, কাদামাটি, অরণ্য, পাহাড়, নদী, সমুদ্র, খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সবুজের সমারোহ, মানুষের মুখ- এসবই তার আঁকার উপজীব্য। কাজের ক্ষেত্রে  করিমের কাছে শূন্যতা খুবই অপছন্দের। তাই শিল্পীর চোখে, প্রকৃতির মাঝে যখন করিম শূন্যতা খুঁজে পান তা তিনি অপূর্ণ রাখেন না।

সব পাখি ঘরে ফেরে না

সব পাখি ঘরে ফেরে না


সব পাখি ঘরে ফেরে না
সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

অফিস থেকে বাসায় ফিরে আসিফ দেখতে পেল দরজায় তালা ঝুলছে। বুঝতে বাকি রইলো না, তিশা আবারো বাসা ছেড়ে চলে গেছে। এই নিয়ে ছয় বার, তাই আসিফ খুব বেশি অবাক হয়নি। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বাড়িওয়ালার বাসায় গেল চাবি আনতে। চাবি দেওয়ার সময় বাড়িওয়ালা দু’চার কথা শুনিয়ে দিল। ‘শুনেছি প্রেম করে বিয়ে করেছিলে। দুই বছর পার হলো না এর মধ্যে অনেকবার ঘর ছেড়েছে। কেমন প্রেম করেছিলে যে বউ কথায় কথায় ঘর ছেড়ে চলে যায়। এবার বাচ্চাকাচ্চা নাও মিয়া, এতে করেও যদি তোমাদের সংসার কোনো রকমে টিঁকে থাকে।’ এসব শুনে আসিফ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। চুপ করে মাথা নুইয়ে চাবি হাতে নিয়ে সালাম দিয়ে বিদায় নেয়। তালা খুলে ঘরে ঢুকে ডাইনিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে এক গ্লাস পানি খেয়ে জগের নিচে রাখা চিরকুটটা হাতে নিল। তারপর বেড রুমে ঢুকে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়ে চিরকুট খুলে বেশ কিছু সময় তাকিয়ে রইলো। গতানুগতিক সেই একই কথা। ‘তোমার সাথে আর সংসার করা সম্ভব নয়। আর ফিরে আসছি না। ভুলেও আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করবে না।’ তবে এবার নতুন করে যোগ হল, ‘আমি তোমাকে খুব দ্রুত ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়ে দিব। এটাই আমার ফাইনাল ডিসিশন।’ আসিফ চিরকুট থেকে চোখ সরাতে পারছে না। ডিভোর্স নামক শব্দে তার চোখ আটকে আছে। কখন যে চোখের কোণে পানি এসে গেল, সে বুঝতে পারলো না। চোখের পানি মুছে মোবাইলটা হাতে নিয়ে তিশাকে কল দিতে গিয়ে থেমে গেল। ডিভোর্সের কথাটা মনে হতেই আসিফের খুব অভিমান হয়েছে। গতকাল রাতে ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাগের মাথায় একটা চড় মেরেছে, তাই বলে ডিভোর্স দিতে হবে! এটা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছে না আসিফ। অফিস থেকে ফিরে হালকা নাস্তার অভ্যাস আছে কিন্তু কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না। পেটে ক্ষুধা নিয়েই বিছানায় শুয়ে থেকে এক ভাবনার জগতে হারিয়ে গেছে। মনে পড়ছে সেই পুরানো দিনে কথা।

এক সময় আসিফের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ব্যবসা বেশ ভালোই চলছিল। একের পর এক বিভিন্ন রকম ইভেন্ট অর্গানাইজ করে তখন দু’হাত ভরে টাকা কামাই হচ্ছিল। একটা ইভেন্টের কাজে আসিফের সাথে তিশার পরিচয়। তারপর ফেসবুকে বন্ধুত্ব এবং মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করতে করতে একসময় ঘনিষ্ঠতা। আসিফের সাথে যতবারই তিশার দেখা হয়েছে, কোনো না কোনো নামীদামি রেস্টুরেন্টে কিংবা শপিং মলে। এছাড়াও প্রাইভেট কার ভাড়া করে এখানে ওখানে লং ড্রাইভে যাওয়া। তিশাকে খুশি করতে একসময় আসিফ ব্যাংক লোন নিয়ে ডাউন পেমেন্ট করে নিজেই একটা প্রাইভেট কার কিনে নেয়। আসিফের চাকচিক্য ও আভিজাত্য তিশাকে বরাবরই মুগ্ধ করে রাখে। স্বামী হিসেবে মেয়েরা এমন ছেলেই পছন্দ করে। আসিফকে বিয়ে করতে তিশা মরিয়া হয়ে উঠে। যদিও আসিফ তখন বিয়ের জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। তারপরেও তিশার চাপ উপেক্ষা করতে পারেনি। তাই বেশ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিশার ইচ্ছায় বিয়ের পর হানিমুনে গেল থাইল্যান্ড। হানিমুন থেকে ফিরে এসে আসিফ ব্যবসায়ে মনোযোগ দিতে গিয়ে দেখে প্রচুর দেনা পড়ে গেছে। কিন্তু দেনা পরিশোধের জন্য ব্যাংক একাউন্টে তেমন টাকাও নেই। আসিফ ভালো ব্যবসায়ী, তাই সাপ্লাইয়ের পার্টিরা বাকিতে ইভেন্ট অর্গানাইজ করার মালামাল দিত। বাকিতে মালামাল নিলেও সে সবার টাকাই ঠিক মতো পরিশোধ করত। তবে বিগত চার মাস যাবত আসিফ কারো টাকাই ঠিকমতো পরিশোধ করেনি। বর্তমানে সাপ্লাইয়ের বিভিন্ন পার্টি পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য অফিসে বসে থাকে। এদিকে নতুন কাজ হাতে নিতে পারছে না কারণ টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কেউ বাকিতে মালামাল দিবে না। তখন আসিফের মনে পড়ে, যে টাকা দিয়ে সে ধুমধাম করে বিয়ে এবং হানিমুনে করেছিল, সেটা ছিল সাপ্লাই পার্টিদের বাকির টাকা। বাধ্য হয়ে ডাউন পেমেন্টে কেনা নতুন গাড়ি বিক্রি করে দেয়। যদিও বেশি টাকা পায়নি কিন্তু অল্প করে পার্টিদের কিছু টাকা পরিশোধ করে। এদিকে আসিফের ব্যবসার দূরাবস্থা, অন্যদিকে তিশার উচ্চ বিলাসিতা। কোনো দিক সে ঠিক মতো সামাল দিতে পারছে না। দিনে দিনে তিশা বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং প্রায় প্রতিদিন এটা ওটা নিয়ে আসিফের সাথে রাতভর ঝগড়া করে। যেদিন মাত্রাতিরিক্ত ঝগড়া হয়, পরের দিন সকালে তিশা বাপের বাড়ি চলে যায়। আবার আসিফ শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অনেকটাই নাকে খত দেওয়ার মত করে তিশাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

অনেক চেষ্টা করেও আসিফ ব্যবসায়ে ফিরে আসতে পারেনি। একের পর এক কাজ হারাতে থাকে। অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া যেখানে দায়, সেখানে পাওনাদারের টাকা পরিশোধ যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া। তাই শেষ মূহুর্তে বাধ্য হয়ে আসিফ তার এক বন্ধুর কাছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটা বিক্রি করে দিয়ে সবার দেনা পরিশোধ করে। ব্যবসা হারিয়ে সে হন্য হয়ে চাকরি খুঁজতে থাকে। ভাগ্য ভালো ছিল, তাই এক বন্ধুর সহযোগিতায় একটা স্বনামধন্য এড ফার্মে সে চাকরি পেয়ে যায়। মোটামুটি যা বেতন পেত, দুজনের পরিবার সুন্দর ভাবেই চালানো যেত। কিন্তু তিশার উচ্চ বিলাসি মানসিকতা আসিফের প্রতিকূল পরিস্থিতি বুঝতে চাইতো না। বিভিন্ন ভাবে আসিফকে মানসিক টর্চার করত। সে আপ্রাণ চেষ্টা করেও তিশার মন জয় করতে পারত না। কারণ তিশার বিলাসিতার কাছে আসিফের আয় ছিল সীমিত। এক সময় তিশা নিজেও চাকরি করতে চায়। সেই চাকরিটাও আসিফ জোগাড় করে দিল। চাকরিতে জয়েন করার মাসখানেক পর থেকে তিশা আসিফের প্রতি আরো বেশি উদাসীন হয়ে যায়। আসিফ খেল কি খেল না, কোনো কিছু নিয়ে তিশার মাথা ব্যথা নেই। সংসারের খরচ আসিফ দিয়ে যাচ্ছে আর তিশা নিজের ইনকাম দিয়ে বিলাসিতা করছে। এভাবেই চলছে, তবুও আসিফের তেমন কোনো অভিযোগ নেই। যদিও মাঝেমধ্যে নিজের সাথে আক্ষেপ করে কিন্তু মুখ খুলে কিছু বলেনি। সে সব সময়ই চেষ্টা করে তিশার সাথে ঝগড়া এড়িয়ে চলতে। তবে এক সময় লক্ষ্য করে তিশার মধ্যে কিছু পরিবর্তন এসেছে। তিশা মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলে। তার মোবাইল ফোন ধরলে আসিফের সাথে ঝগড়া করে। কখনো কখনো রাত করে বাসায় ফিরে। এসব নিয়ে কথা বললেই আসিফের সাথে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। আবারো বাপের বাড়ি চলে যায়। আবারো নাকে খত দেওয়ার মত করে তিশাকে ফিরিয়ে আনতে হয়। শেষমেশ অনেকটাই নিরুপায় হয়ে আসিফ তিশার সবকিছুই বাধ্য হয়ে মেনে নেয়। সে চায় অন্তত সংসারটা টিঁকে থাকুক। সত্যি কথা বলতে, আসিফ তিশাকে ভীষণ ভালোবাসে। তাই সে চায় না কোনো ভাবেই তিশাকে হারাতে। একটা গানের কথায় আছে, মন ছুটলে কাউকে ধরে রাখা যায় না। তিশার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হল।

অফিসের কাজে পারদর্শী না হলেও কীভাবে বসের মন জয় করতে হয়, তিশা সেটা খুব ভালোই জানে। তাই চাকরির ছয় মাসের মাথায় জব কনফারমেশনের সাথে একটা প্রমোশনও পেয়ে যায়। তিশা তখন ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলতে থাকে। দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠে। অফিসে বসদের সাথে ঘেঁষাঘেষি করা যেন তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য নারী কলিগরাও এসব দেখে নাক সিটকায় কিন্তু এতে করে তিশার কিছুই যায় আসে না। একদিন অফিসের এক পার্টিতে পরিচয় ঘটে অন্য এক কোম্পানির একজন ইয়াং ডিরেক্টর নাঈম আহমেদের সাথে। তিশা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে নাঈম আহমেদের নজরে আসার চেষ্টা করে এবং এসেও যায়। ফেসবুকে ও মোবাইলে আলাপচারিতায় কিছুদিনের মধ্যেই দুজনের মধ্যে বেশ অন্তরঙ্গ একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তার হাত ধরে মাস দুয়েক পর সে ওই কোম্পানির অফিসে ডাবল প্রমোশন নিয়ে জয়েন করে। নতুন অফিসে জয়েন করার পর তিশার গেটআপ বদলে গেছে। এখন তার মধ্যে একটা আভিজাত্য ভাব ফুটে উঠেছে। নাঈম আহমেদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পার্টিতে যাচ্ছে। সে যেমন জীবন চেয়েছিল, তার সাথে সেটাই খুঁজে পাচ্ছে। এদিকে আসিফের প্রতি তিশার প্রায় সব রকম আগ্রহ ও টান ফুরিয়ে গেছে। শুধুমাত্র একটা সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য আসিফের সঙ্গে থাকা। একদিন রাতে আসিফ তিশাকে একটা ভিডিও ফুটেজ দেখায়। নাঈম আহমেদের সঙ্গে তিশা অভিজাত হোটেলের রুমে ঢুকছে। ওই হোটেলে চাকরি করে আসিফের বন্ধু। সে সিসি ক্যামেরা হতে ওই ফুটেজ সংগ্রহ করে আসিফকে দিয়ে ছিল। ওই ফুটেজের বিষয়ে তিশার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হতে হতে এক পর্যায়ে আসিফ তিশার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়। তিশা আর কোনো কথা না বলে বিছানায় শুয়ে থাকে আর আসিফ ড্রয়িং রুমের সোফায়। পরদিন সকালে ঘুম ওঠে আসিফ রেডি হয়ে অফিসে চলে যায়। তিশার সেদিন ডে-অফ থাকায় সে দরজার চাবি নিয়ে যায়নি। আসিফ চলে যাওয়ার পর তিশা ঘুম থেকে ওঠে। তারপর লাগেজ গুছিয়ে একটি চিরকুট লিখে ডাইনিং টেবিলের জগের নিচে রেখে বাসা ছেড়ে চলে যায়। যাওয়ার আগে বাসার চারি বাড়িওয়ালার হাতে বুঝিয়ে দেয়।

তিশার উপর আসিফের রাজ্যের অভিমান থাকলেও সে যোগাযোগ না করে থাকতে পারেনি। সপ্তাহখানেক পর তিশার বাবার মোবাইলে কল দেয়। সালাম দিয়ে ভালো মন্দ খোঁজ খবর নিয়ে তিশার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান তিশা তো বাসায় আসেনি। তখনই আসিফের মাথাটা চক্কর মেরে ওঠে। তিশার বাবা অতিমাত্রায় একজন ভদ্রলোক। শুধুমাত্র উনার জন্যেই তিশা প্রত্যেক বার আসিফের কাছে ফিরে আসতে বাধ্য হয়ে ছিল। তবে তিশার মা তার ঠিক উল্টো। আসিফকে নাকে খত দিয়ে তারপর তিশাকে যেতে দেয়। যা হোক, আসিফ ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় কিন্তু শ্বশুরকে জানায়নি যে তিশা এক সপ্তাহ আগে বাসা ছেড়ে চলে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও যখন তিশার কোনো খোঁজ পাচ্ছে না, তখনই একটা কল আসে আসিফের মোবাইলে। সে কল রিসিভ করতে অপর প্রান্ত থেকে বলে উঠে, ‘আমি নাঈম আহমেদ। আপনার স্ত্রী তিশা আমার কাছে আছে। সে আপনাকে ডিভোর্স দিতে চায়। যদি মিউচুয়ালে হয়, তাহলে সবকিছু সহজেই হয়ে যাবে। আশাকরি আপনি কোনো আপত্তি রাখবেন না। আপত্তি করলেও তিশা আপনাকে একতরফা ডিভোর্স দিবেই। আপনি ভেবে চিনতে আমাকে আগামী তিনদিনের মধ্যে জানাবেন।’ আসিফ তিনদিন ধরে অনেক অনেক চিন্তা ভাবনা করে কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। আবারো নাঈম আহমেদের কল আসে। সে জানিয়ে দেয় মিউচুয়াল ডিভোর্সে সে রাজি নয়। তিশার জন্য সে অপেক্ষা করবে, যদি তার সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন আসে। আসিফের কথা শুনে নাঈম আহমেদ অট্টহাসিতে মেতে ওঠে এবং বেস্ট অফ লাক বলে কল কেটে দেয়। কিছুদিন পরেই তিশার পক্ষ হতে ডিভোর্সের উকিল নোটিশ আসে। তবুও আসিফ হাল ছাড়েনি। অপেক্ষা করতে থাকে। যদি তিশার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় শেষে ডিভোর্স চূড়ান্ত ভাবে কার্যকর হয়। তখন আসিফ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উপলব্ধি করে, সব পাখি ঘরে ফিরে না।


পদাবলি

পদাবলি


হলুদ খাম 
মোঃ আবদুল্লাহ আল রাফি কায়সার 

ভালো নেই, কথাটা যাকে তাকে বলা যায় না!
শুধু তাকে বলা যায়,যাকে মন থেকে ভালোবাসা যায়!

হয়তে সে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট টুকুও বুঝে না!
কি আজব দুনিয়ায় আমরা বসবাস করি..।

ভাবতেও খারাপ লাগে যে,
কিছু কিছু সময় মন এত বেশি খারাপ হয় যে,
ভালো নেই কথাটা বলতে মন চাইলেও মুখ ফুটে
বলা হয়ে উঠে না।
কারন তাদের কথায় কেউ গুরুত্ব দেয় না.
তাদের গুরুত্ব না দেওয়াতে কতটুকু কষ্ট হয়
কেউ বুঝেও না! 

কিন্তু...
৩২ টা দাঁত বের করে হাসির ছলে কাঁদে
তবু কাউকে বুঝতে দেয় না।
নিরবে একা একা বসে
দু’চোখের অশ্রু বের করে ফেলে সবটুকু। 

অথচ” আমরা সবার সামনে গিয়ে অট্ট হাসি দেই
কি আজব তাই না?

সবাই আমাদের মতো বোকা মানুষ গুলোর একটুও খোঁজ রাখে না,
আমরা কতটা সুখে দিবস রজনী পার করি।



জন্মান্তর 
সুমন টিংকু

এখনও কিছু ধুলোখেলা বাকী রয়ে গেল।
কাঠগোলাপের পাতায় এখনও কিছু বিস্ময়,
রোদের বৃষ্টিতে এখনও কিছু অনাঘ্রাত আভা,
কাঠবিড়ালীর লেজের মায়ায় এখনও কিছু যতেœ রাখা ওম।
বাদল মাখা এখনও কিছু কৃষ্ণ রাঙ্গা বিকেল
ভরা নদে এখনও কিছু বৈঠা হাতে মাঝি
দূর গাঁয়ের হাঁটা পথে এখনও কিছু পথিকের ছায়া
বাঁশ বাগানে এখনও কিছু কাজলা দিদির শোলক।
শিউলি উঠোনে এখনও কিছু শিশিরের গন্ধ,
কাশের বনে এখনও কিছু শরতের কাল
দুপুরের মাঠে এখনও কিছু অগ্রহায়ণ গান
নদীর পাড়ে এখনও কিছু কুড়িয়ে পাওয়া ঢেউ

শীতের সকালে এখনও কিছু রোদ পোহানো মাঠ,
রাঁধাচূড়ায় এখনও কিছু কৃষ্ণ বাঁশির সুর
তালের ছায়ায় এখনও কিছু বাবুই পাখির বাসা
তোতা পুকুরে এখনও কিছু কলস কাঁখে বউ
ছাদের উপর এখনও কিছু আমসত্ত্বের মায়া
পাঁচিল ঘেঁষে এখনও কিছু ঝুলে থাকা কুল
শর্ষে ক্ষেতে এখনও কিছু উড়ে যাওয়া বক
চড়–ইভাতির এখনও কিছু ধোঁয়া ওঠা ভাত
বেতের বনে এখনও কিছু সন্ধ্যে নামা রঙ
সাঁকোর কাছে এখনও কিছু নৌকা অপেক্ষাতে
পাহাড়ী পাড়ায় এখনও কিছু মাটির মায়া ডাকে
বরফ ছোঁয়া এখনও কিছু রাত্রি জেগে থাকে
সূর্য ডোবার পিঠ বরাবর এখনও কিছু নবজাত ভোর
দেখা বাকী রয়ে গেল,
বাকী রয়ে যায়।
কে বলে জীবন ফুরায়?
প্রতিটি ভোরেই নবজন্মে সে জন্মান্তরের কাহিনী রচে।


বাংলাদেশ 
রাতিক হাসান রাজীব 

যেখানে পাখির ডাকে ভোর হয়
কৃষ্ণচূড়ার রঙে রাঙায় ফাগুন,
সে যে আমার দেশ - বাংলাদেশ।

এখানে ধানের ক্ষেতে শালিকের আনাগোনা
যদি মিলে ঘাসফড়িং, খেয়ে নিবে তাঁরা।
এখানে সবুজের বুকে
রোদের নিত্যকার হাসি।
এখানে কুয়াশার চাদর,
আকাশ থাকে নীল।
এখানে জন্মেছে জসীমউদ্দিন,
দুর্ভিক্ষের চিত্র আঁকা জয়নুল আবেদীন।

এখানে শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা
নদীর ধারে কাশফুলের মেলা।
এখানে দাদিমার গল্প শুনে খুকির আসে ঘুম,
রাতের আকাশে চাঁদ দেয় জোৎস্না।


নিষ্প্রাণ ভায়োলিন
নুসরাত জুবেরী

নিরংশু হয়ে গেছে পৃথিবীর নিরঙ্কুশ দিন-
এমনো দিন আমি দেখিনি কোনোদিন
দূরে; বহুদূরে মানুষ, যানবাহন, রাস্তার কুকুর
মরিচিকার মতো চোখে ধরা দেয় কিঞ্চিৎ।
শুকনো হয়ে ঝুলে থাকে পাখা ঝাপটানো বাদুর,
বৈদ্যুতিক খুঁটির তারগুলোও আজ কেমন খালি খালি লাগে!
শহুরে কাকেদের আনাগোনা কমে যাচ্ছে ক্রমশই।
চালের আড়তে বসে হিসাবের খাতা ছেড়ে,
অসহায় শোকে পাথর বৈকুন্ঠ; চাল গুনছে সময় ফুরোতে।
আজানের পর মুয়াজ্জিনের কম্পিত কন্ঠে ঘোষণা
তোমরা এসো না, মসজিদে এসো না।
পরম মমতায় জড়ানো মাতৃকোলের মূঢ় শিশুটিও
মহামারী আঁচ করে কেঁদে উঠছে বারবার।

পৃথিবীতে এখন কোনো জাদু নেই,
চায়ের কাপে ধোয়ার মত উড়ে যাচ্ছে সব জাদুমন্ত্র।
শুধু স্থায়ী হচ্ছে সাড়ি সাড়ি কফিনের মাঝে শীতল লাশ
এই যে! পাশাপাশি দু’টো কফিনে শুয়ে আছে এক দম্পতি
তার পাশে দু’টো কফিনে ঘুমিয়ে পড়েছে জমজ শিশু
আর এই কফিনে!
এই কফিনে চোখ বুঝেছে আমার কবিতার সেই সবুজ মেয়েটি
আরো কফিন সাজানো হচ্ছে,
অপলক চোখে শুধু নিঃশব্দ তাকিয়ে দেখছে যীশু।

নিরংশু হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর নিরঙ্কুশ দিন,
এমনো দিন আমি দেখিনি কোনোদিন
সামাজিক দূরত্ব নাকি বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়
ক্ষমতা, ভূষণ, লাবণ্য, অর্থ সবই আজ নিরূপায়
তালাবদ্ধ  জীবনে পৃথিবী প্রায় অকেজো, ছন্দ হারাচ্ছে সুর
হে ¯্রষ্ঠা, সৃষ্টির এই মহামারী আর দীর্ঘ হবে কতদূর?
ফিরিয়ে দাও না পৃথিবীর যত ললিত নিরঙ্কুস দিন,
হে ¯্রষ্ঠা, আমি ক্লান্ত!
আমার দুয়ারে দৈনিক বাজে নি®প্রাণ ভায়োলিন।

                                     

দুরন্ত শৈশব
জাকির হোসেন কামাল

স্মৃতির পাতা হাতড়ে বেড়াই বন্ধুরা কই সব,
কোথায় গেল সেদিনগুলো দুরন্ত শৈশব।

ক্রমেই এখন ভাংছে দেখি ছোট্ট গাঙের পাড়,
ছোট্ট বেলায় ছুটে যেতাম বাড়ন্ত দুদ্দাড়।

জলের মাঝে লাফিয়ে পড়া জল-সাতারুর দল,
জলের মাঝে দেখেছিলাম জলের কোলাহল।

গাঙটা কে যে আর দেখিনা কোথায় গাঙের ঢেউ,
স্মৃতির ঢেউয়ে উথালপাতাল খোঁজ রাখেনা কেউ।

খোঁজ রাখেনা যাচ্ছে কেমন নষ্টে কষ্টে দিন,
পড়শিরা যে কার পরশে এমন উদাসীন।

এক চিলতে আকাশ এখন কোথায় উদার মাঠ,
বিশাল মাঠে আগে নিতাম ভালবাসার পাঠ।

এখন এসব স্মৃতিকথা কথার কলরব,
আজও আমি বৃথাই খুঁজি দুরন্ত শৈশব।


প্রেম গদ্য
রোমানুর রোমান

তোমাকে যতই দেখছি ততই প্রেমে পড়ছি,
হয়তো সরাসরি বলা হবে না এ কথা।
তাই লিখে রাখলাম একটি কবিতা নামক গদ্য।
যাতে মনের কথা জমতে জমতে বমি হয়ে না যায়।

তোমাকে দেখছি আর মুগ্ধ হচ্ছি, বার বার প্রেমে পড়ছি।
আচ্ছা, এতো পড়লে আমার হৃদযন্ত্র ভেঙ্গে যাবে নাতো!
উপর থেকে পড়লে যেমন হাত- পা ভেঙ্গে যায়
তেমনি মনটাও কী ভেঙ্গে যাবে!
যাক, তাও কিছু করার নেই।
সবকিছু ভেঙ্গেচুরে গেলেও তোমার প্রেমে পড়তেই হবে।
শুধু হবে না মনের কথা বলা।

শাল বিষয়ক আলোচনা

শাল বিষয়ক আলোচনা


শাল বিষয়ক আলোচনা
সাজিদুর রহমান

কবিতায় উঠে আসে সে এক জীবননর্দমা থেকে উড়ে যায় কলমের নিভ। সে যেন এক হাতিয়ারবিদ্ধ করে বুকের পাঁজর,তুলে আনে রক্তিম পতাকা। শালএ বলা হয়েছে প্রেমিকার বাসরের কথা, বিচ্ছেদের কথা, প্রণয়ের কথা। জীবন কি কেবল লেখে বেদনার কপাল? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয় শালের ওমে! শাল সেই গৃহ, যেখানে বেড়ে উঠেছে হলুদ পাহাড়, শাল সেই দ্রুতগামী চলন্ত নৌকা, যার বৈঠায় পার হয়ে যায় গোপন আঘাত।

দীর্ঘকায় পথে জীয়ন্ত হয়ে উঠে মরা গাছ। নষ্ট হয়ে গেছে বিষধর পা। সে পা কি কেবল চষে বেড়ায় সুখের বাসর? প্রেমিকা কি তার বাসর রাতে ভাবে সে সকল ব্যক্তিগত দুঃখের কথা যা সে অনামিকা ছুঁয়ে বলেছিলো?

শাল সেই অগ্রসর পটচিত্র, যার পরতে পরতে সেজে উঠেছে গভীর আক্ষেপ, লুকায়িত ব্যাথার প্রতিচ্ছবি।

বইয়ের নাম : শাল
ধরণ : কাব্যগ্রন্থ (পিডিএফ)
কবি : ইসরাফিল আকন্দ রুদ্র
প্রকাশনা সংস্থা : পোয়েট এন্ড মিসক্রিয়ান্ট প্রকাশনী
মূল্য : বিনামূল্য। ফ্রি।

শব্দমালা : মোহাম্মদ আবদুর রহমান

শব্দমালা : মোহাম্মদ আবদুর রহমান


শব্দমালা
মোহাম্মদ আবদুর রহমান

হার জিত

আমি হেরে গেছি
তুমি আমাকে পারোনি হারাতে
কারণ তোমাকে আমি ভালোবাসী
তোমার হার আমার লজ্জা
আর তোমার জয় আমার আনন্দ।


শপথ

শপথ করেছিল
আগুনে পুড়লেও সরাবো না হাত
দুটি হাত একসাথে থাকবে সারাজীবন
আর আলো দেখে সরিয়ে নিলে
যদিও সামনে হাতছানি দেয় সোনালী ভবিষৎ।


ক্ষত

জীবনের সকল ক্ষত
শুধু তুমি পারবে মুছে দিতে
কিন্তু তা করবেনা
কারণ এই ক্ষত গুলি দেখার জন্য
জ্বালিয়ে ছিল আগুন
আর গুনেছিলে প্রহর।

ভালোবাসা তোমার জন্য

ভালোবাসা তোমার জন্য



ভালোবাসা তোমার জন্য
ইমতিয়াজ সজল 


ইফতেখার আজ সকাল বেলা করে বারান্দায় বসে কি যেন ভাবছে। অফিস হয়ত বন্ধ তাই কোথাও যাবার তাড়া নেই। এমন সময় আর্নি তার রুম পেরিয়ে বারান্দায় হাজির, হয়ত দরোজা খোলাছিলো তাই কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি।
-কি মিস্টার! অফিস কি আজ যাবেন নাহ।
-নাহ! আজ অফিসে যাবো না, একে তো বন্ধ তার উপর ভালো লাগছে না।
আর্নি দ্রুত সরে এসে কপালে হাত দিয়ে।
-কই শরীরের তাপমাত্রা তো ঠিক আছে। তেমন কিছু হয়েছে বলে তো মনে হচ্ছে না।
-আসলে মন ভালো নেই..
-কেনো? আজ আবার মনে কি হলো!
-সত্যি কথা বলতে তুমি চলে যাবার পর থেকে আমার পুরোটাই ভালো নেই সব-থেকে বেশি মন ভালো নেই, কিছু করতে এখন আর ভালো লাগে না।
-আমাকে এতটা ভালোবাসো কখনো তো বলো নি।
-ভালোবাসি অনেক তবে কখনো বলা হয়নি বা বলতে ইচ্ছেও হয়নি কারণ তোমাকে আমি সব-সময় আমার কাছে পেয়েছি, তবে আজ অনেক করে ইচ্ছে করছে তোমাকে এক-বার বলি আমি তোমাকে কতটা ‘ভালোবাসি’
-ভালোবাসার মানুষ গুলোর এই একটা সমস্যা মানুষ-গুলো হারিয়ে গেলে রিয়েলাইযেশন হয় কে কাকে কতটা ভালোবাসে।
-আচ্ছা তোমাকে কি আর ফিরে পাওয়া হবে না...
মোবাইলের রিংটোন এ ইফতেখারের খেয়াল ফিরলো। কিছু ফোন কল এসেছে আর্নিদের বাড়ি থেকে, তারপর চোখে পড়লো আর্নির মেসেজ “তোমার জন্য পাঠালাম ডিভোর্স পেপার, এবার তুমি মুক্ত” ইফতেখারের চোখ লাল হয়ে এলো। এতক্ষন যা হলো সব কি কল্পনা ছিলো। গভীর করে আর বলা হলো না “কতটা ভালোবাসি তাকে”

সন্দেহ

সন্দেহ


সন্দেহ
কবির কাঞ্চন

আবু সুফিয়ান। বয়স আনুমানিক ১২ হবে। এ বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়েছে সে। ৭ বছর বয়স থেকেই সে মোতালেব মিয়ার বাড়িতে কাজ করে। প্রথমে তাকে বাড়ির এককোণে অবস্থিত পরিত্যক্ত একটি রুমে থাকতে দেয়া হয়। এরপর বাড়ির সবার যেকোন প্রয়োজনে সুফিয়ানকে ডাকা হয়। সুফিয়ানও সবার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। বাড়ির বাজার করা, ঘরদোর পরিষ্কার করা, মোতালেব মিয়ার একমাত্র ছেলে সোহেলের দেখাশোনা করা তার প্রধান কাজ।
দিনে দিনে মোতালেব মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সাথে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইতোমধ্যে থাকবার জন্য মোতালেব মিয়ার মূল ভবনের একটি রুমও পেয়েছে সে।

রেহনুমা বেগম। মোতালেব মিয়ার স্ত্রী। একজন ধার্মিক মহিলা। সুফিয়ানকে তিনি খুব দেখতে পারেন। সুফিয়ানও তার ভালোবাসার মাঝে মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসাকে খুঁজে পেয়েছে। মোতালেব মিয়া একটু গম্ভীর স্বভাবের মানুষ হলেও সুফিয়ানকে মাঝে মধ্যে আদর করেন। হাতখরচের জন্য কিছু টাকাও দেন। সোহেল তাকে আপন ভাইয়ের মতোই জানে। এতোদিনে মোতালেব মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সে আপন করে নিয়েছে। ওদের মাঝেই বেঁচে থাকার শক্তি ফিরে পেয়েছে।

একদিন বাজার থেকে এসে মোতালেব মিয়া চিন্তামগ্ন হয়ে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেন। রেহনুমা বেগম নামাজ শেষে জায়নামাজটা গুছিয়ে নিয়ে বললেন,
-কী হলো, সোহেলের বাপ? আজ তোমাকে এমন লাগছে কেন? কোন সমস্যা?
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হতাশার সুরে মোতালেব মিয়া বললেন,
-হ্যাঁ, রেণু, মনটা ভালো নেই।
-হঠাৎ কী হয়েছে?
-কী হয়নি সেটা বল। টেলিভিশনটা অন করে খবরের চ্যানেল দাও।
-কোন খারাপ কিছু?
-হ্যাঁ, সারাবিশ্বে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের উহান শহর থেকে করোনা নামক একটা ভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বলতে না বলতেই এটা নাকি আমাদের দেশেও ঢুকে পড়েছে। ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে আগত প্রবাসীদের মধ্যে কয়েকজনের দেহে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে।
-কী বলছো! আজ কয়েকদিন ধরে কোন খবর দেখছি না। হায়! আল্লাহ, একি খবর শোনালে।

এই কথা বলে রেহনুমা বেগম উদ্বিগ্ন হয়ে টিভি সেটটা অন করলেন।
দু’জনে গভীর মনোযোগ দিয়ে খবর শুনলেন। এরপর টিভি অফ করে বেশ কিছু সময় নীরব থাকার পর রেহনুমা বেগম বললেন,
-এখন আমাদের কী হবে? আমরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেলাম!
-হ্যাঁ, রেণু। খুব ভয় লাগছে। কি থেকে কি হয়ে যায়! সোহেল আর সুফিয়ানকে দেখছি না। ওরা আবার কোথায় গেল?
-আর কোথায় যাবে? বাড়ির কোথাও আছে নিশ্চয়।
-এখন থেকে ওদের দিকে বেশি খেয়াল রাখবে। বিশেষ করে সোহেলের সবকিছুতে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। ওদের স্কুলও বোধহয় বন্ধ হয়ে যাবে। ওর বাড়ির বাইরে যাবার কোন দরকার নেই।
-এভাবে কী জীবন চলবে?
-কেন চলবে না। সুস্থভাবে বাঁচতে হলে আমাদের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে।
-হোম কোয়ারান্টাইন কী?
-কোনও ব্যক্তি যখন নিজের বাড়িতেই কোয়রান্টিনের সব নিয়ম মেনে, বাইরের লোকজনের সঙ্গে ওঠাবসা বন্ধ করে আলাদা থাকেন, তখন তাকে হোম কোয়রান্টাইন বলে।
-আর কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হলে কী করতে হয়?
-কোন ব্যক্তি করোনা পজিটিভ হলে তাকে আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
আইসোলেশনের সময় চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে থাকতে হয় রোগীকে। অন্য রোগীদের কথা ভেবে হাসপাতালে আলাদা জায়গা তৈরি করা হয় এদের জন্য। অন্তত ১৪ দিনের মেয়াদে আইসোলেশন চলে। অসুখের গতিপ্রকৃতি দেখে তা বাড়ানোও হয়। আইসোলেশনে থাকা রোগীর সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। তাদের পরিবার পরিজনের সঙ্গেও এই সময় দেখা করতে দেওয়া হয় না। একান্ত তা করতে দেওয়া হলেও অনেক বিধিনিষেধ মেনেই করতে হয়।
-এবার বুঝলাম। আচ্ছা কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা প্রাথমিকভাবে কীভাবে বুঝব?
-জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা, কাশি, মাথা ব্যথা, হাঁচি, অবসাদ, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি দেখে।
-আচ্ছা। এ রোগের কোন প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয়নি?
-না, এখনও এর কোন প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয়নি। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এই সময় কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিয়ে, নিরাপদ পানি, ভাল করে খাওয়া-দাওয়া, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায় এমন কিছু ওষুধ ও পথ্য দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হয়। যাদের শরীরে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি ও করোনার প্রকোপ অল্প, তারা এই পদ্ধতিতে সুস্থও হন। আর যাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ও রোগের হানা বড়সড় রকমের, তাদের পক্ষে সেরে ওঠা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
রেহনুমা বেগম চিন্তিত হয়ে বললেন,
-আচ্ছা, এ রোগ প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা নিতে হয়?
মোতালেব মিয়া বাজারের ব্যাগটা টেনে নিয়ে আবার বললেন,
-এখানে কিছু লেবু আছে। এগুলো ধুয়ে যতœ করে রেখে দাও। মাল্টাগুলো ফ্রিজে রেখে দাও। এখন থেকে ‘ভিটামিন সি’ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর হ্যাঁ, এ সময় নাক, মুখ ও চোখে হাত দেয়া থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। এখন থেকে ঘরের সবাই যেন কিছুক্ষণ পরপর সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধৌত করে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবে।
-তুমি তো দেখছি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতো কথা বলছো।
-তুমি জানো না, বাইরে এসব এখন সবার মুখে মুখে।

হঠাৎ সোহেলকে ঘরের দিকে আসতে দেখে মোতালেব মিয়া কাছে ডেকে সোফায় বসিয়ে বললেন,
-শোন বাবা, আজ থেকে খুব জরুরি দরকার ছাড়া আমরা কেউই ঘরের বাইরে যাব না।
-কেন, কি হয়েছে, বাবা?
-দেশের পরিস্থিতি ভালো নয়। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোহেল একটু ভেবে নিয়ে বলল,
-আমিও শুনেছি। টিভি অন করলেই তো এখন করোনার কথা শুনি।
হঠাৎ বাবার হাতে কিছু দেখে সোহেল বলে ওঠলো,
-বাবা, তোমার হাতে ওগুলো কী?
-মাস্ক।
-কয়টা এনেছো?
-৪টা।
-আমাকে দুইটা দাও।
-দুইটা কেন?
-একটা আমার জন্য। আরেকটা সুফিয়ানের জন্য।
মোতালেব মিয়া স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
-ভালো। অনেকক্ষণ ধরে সুফিয়ানকে দেখছি না। ও আবার কোনদিকে গেল?
-বাবা, ও আমার পড়ার রুম পরিষ্কার করছে। তোমারা এখন কথা বল আমি সেদিকে যাচ্ছি।
-আচ্ছা।

দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে ততই করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন এতে আক্রান্ত হচ্ছে। জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এরইমধ্যে সুফিয়ান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। গায়ে জ্বর। তারওপর হালকা কাশি। হাঁচিও আছে।
খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে সে। সোহেল তার বাবার কাছে সুফিয়ানের অসুস্থতার কথা জানায়। সুফিয়ানকে এভাবে হঠাৎ অসুস্থ হতে দেখে তিনি খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। রাতে স্ত্রীকে কড়া নির্দেশ দেন যেন সকাল সকাল সুফিয়ানকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। রেহনুমা বেগম স্বামীর এমন আদেশে হকচকিয়ে গেলেন। তিনি চোখ কপালে তুলে বললেন,
-এ কেমন কথা! ছেলেটা এতোগুলো বছর আমাদের সাথে আছে। বাবা-মা নেই। আত্মীয়স্বজন বলতে তো ওর আমরা ছাড়া আর কেউ নেই। এতটুকু বাচ্চা ছেলে কই যাবে? আর ওর অপরাধই বা কী?
-তুমি ওকে দেখেছো? ওর গায়ে জ্বর, তারওপর হালকা কাশি। হাঁচিও আছে। আমার মনে হয় করোনা ভাইরাস ওকে সংক্রমণ করেছে। ওকে এ বাড়িতে রাখলে আমাদের সবার মাঝে এটি সংক্রমিত হবে।
-আমার মনে হয় তোমার ধারণা ঠিক নয়। ওর এমনিতেই জ্বর, কাশি হয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের কারণে হয়তো এমনটি হয়েছে।
-না, আবেগে জীবন চলে না, রেণু। তুমি ওকে কালই বাড়ি থেকে বের করে দেবে। আমি আর কোন ঝুঁকি নিতে চাই না।
রেহনুমা বেগম স্বামীর হাত ধরে অনুরোধ করে বললেন,
-প্লিজ, সোহেলের বাপ, তুমি দয়া করে ছেলেটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিও না। প্রয়োজনে আমাদের পরিত্যক্ত রুমে ওকে থাকতে দাও।
-আচ্ছা ঠিক আছে। তাই কর। তবে রুমের বাইরে তালা মেরে রাখবে। খাবার সময় হলে বাইরে থেকে দেয়া যাবে।
এই কথা বলে মোতালেব মিয়া বাজারের দিকে চলে গেলেন।

পরদিন সকালে রেহনুমা বেগম সুফিয়ানকে কাছে ডেকে কেঁদে কেঁদে সব বুঝিয়ে বললেন। সুফিয়ান চোখের জল ছেড়ে খালাম্মার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। রেহনুমা বেগম নিরপরাধ সুফিয়ানকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।  এরপর নিজে গিয়ে সেই পরিত্যক্ত রুমটি পরিষ্কার করে সুফিয়ানকে রেখে আসেন।

এভাবে দিন যায়। সুফিয়ান একাকী একটি পরিত্যক্ত রুমে বন্দী  থেকে অঝরে কান্না করে। সোহেল মাঝেমধ্যে ওর কাছে যেতে চায়। কিন্তু বাবার বারণ আছে বলে যায় না। শুধু খাবার দিতে মোতালেব মিয়া নিজে যান। তাও বাইরে থেকে খাবার দিয়ে চলে আসেন।

প্রতিদিনের মতো আজও বিকালবেলা সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে নলচিরা ভূঁঞার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দিকে আসেন মোতালেব মিয়া। বাবা-ছেলে প্রায় এক ঘন্টা ধরে ব্যায়াম করে বাসায় ফেরে। কিন্তু আজ মোতালেব মিয়ার সাথে স্কুল মাঠে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে দেখা হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরী মোতালেব মিয়ার একসময়ের সহপাঠী ছিলেন। কলেজে পড়ার সময় তারা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এরপর মহিউদ্দিন চৌধুরী হঠাৎ করে ইতালিতে চলে যান। অনেকদিন পর তিনি দেশে ফিরেছেন।  মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে তার ছেলেও আছে। সিজন চৌধুরী। সোহেলের সমবয়সী। মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মোতালেব মিয়া একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করে গল্প করতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যে সোহেল ও সিজনও একে অন্যের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়।  তারা দু'জনে একসাথে খেলতে থাকে।
এরিমধ্যে মাগরিবের আযান দিলে তারা যে যার গন্তব্যে চলে যায়।
এভাবে প্রায় সপ্তাহ খানেক সময় পার হলো।

শনিবার সকালবেলা। মোতালেব মিয়া ফজরের নামাজ আদায় করে সোহেলের রুমের দিকে আসেন। সোহেলকে তখনও বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে তিনি জোরে জোরে শব্দ করে বললেন,
- কী হলো সোহেল, তুমি এখনও শুয়ে আছো?
সোহেল কাতরাতে কাতরাতে বলল,
- আব্বু,  আমার খুব খারাপ লাগছে। জ্বরে আমার গা পুড়ে যাচ্ছে।

এরইমধ্যে সোহেল বেশ কয়েকবার হাঁচি-কাশিও দিয়েছে। মোতালেব মিয়া ছেলের কপালে হাত রেখে চিন্তায় পড়ে যান। রেহনুমা বেগম রান্নাঘর থেকে এসে বললেন,
- সোহেলের কী হয়েছে গো? ও কাঁদছে কেন?
- দেখো, জ্বরে ছেলেটার গা যেন পুড়ে যাচ্ছে। তারওপর হাঁচি-কাশিও হচ্ছে। এখন কী করবো? ভেবে কোন কূল পাচ্ছি না। না জানি ওকেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ করেছে।
- অমন অলক্ষুণে কথা বলো না। আমি ওর মাথায় জলপট্টি দিই। ততক্ষণে তুমি গিয়ে ডাক্তার নিয়ে এসো।
- আচ্ছা।
এই বলে মোতালেব মিয়া বাজারের দিকে চলে আসেন। স্থানীয় একজন গ্রাম্য ডাক্তারকে সব খুলে বললে তিনি 'জাতীয় করোনা ভাইরাস হেল্পলাইন' এ কল দিতে বলেন।
মোতালেব মিয়া হেল্পলাইনে কল দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে একটা টীম এসে সোহেলকে মেডিক্যালের দিকে নিয়ে যায়।  সেখানে ওর সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। এরপর রিপোর্ট হাতে এলে মোতালেব মিয়া জানতে পারেন তার ছেলে করোনা পজিটিভ। মুহূর্তে মোতালেব মিয়া ও রেহনুমা বেগমের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। এরপরই সোহেলকে আইসোলেশনে নেয়া হয়।
মোতালেব মিয়া তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
- আমার মনে হয় সুফিয়ানের কাছ থেকে আমাদের সোহেলের মাঝে করোনা ছড়িয়েছে। আমি তোমাকে কতো করে বলেছি ওকে বাড়ি থেকে বের করে দাও। তুমি দাওনি। মায়া দেখিয়েছিলে। শুধু তোমার কারণে  সোহেলের আজ এমন অবস্থা হয়েছে।
রেহনুমা বেগম স্বামীর মনের অবস্থা বুঝতে পেরে সান্ত্বনার ভাষায় বললেন,
- শান্ত হও, সোহেলের বাপ। রোগব্যাধি আল্লাহর দান। আবার আল্লাহই ভালো করে দেন। আর তুমি শুধু শুধু সুফিয়ানকে দোষারোপ করছো।
তুমি নিজে সবকিছু জেনেবুঝেও সোহেলকে নিয়ে প্রতিদিন বিকেলে বের হতে। হোম কোয়ারান্টাইনের নিয়ম পুরোপুরিভাবে মাননি। আমার মন বলছে, সুফিয়ানের এমনিতেই জ্বর-কাশি হয়েছিল। করোনা হলে তো এতোদিনে ওর বেঁচে থাকবার কথা নয়।
- তাহলে সোহেলের কোথা থেকে হয়েছে?
- আল্লাহই তা ভালো জানেন। তোমার মনে সন্দেহ হলে সুফিয়ানকেও টেস্ট করে দেখতে পার।

স্ত্রীর এমন কথায় মোতালেব মিয়া একটু চিন্তিত হয়ে ভাবতে লাগলেন। এরপর তিনি আবার হেল্পলাইনে কল করলেন। অল্প কিছুক্ষণের  মধ্যে মেডিকেল টীম এসে সুফিয়ানকেও নিয়ে গেল। ওর সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হলো। মেডিকেল টীমের কাছ থেকে রিপোর্ট হাতে পেয়ে মোতালেব মিয়া স্ত্রীর মুখের দিকে লজ্জার চোখে তাকিয়ে থাকেন।