ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ২০৩

ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ২০৩
    তারুণ্যের শিল্প সরোবর ।। বর্ষ ৮ম ।। সংখ্যা ২০৩,    শুক্রবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৪,    ২১ পৌষ ১৪৩০, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪...

পোড়ামাটির ঘ্রাণ...

পোড়ামাটির ঘ্রাণ...
 পোড়ামাটির ঘ্রাণশফিক নহোর ক.কামারহাটের বাতাসে একটা গোপন খবর ইদানীং খুব ঘুরে বেড়াচ্ছে তা নিয়েই মানুষ কানাঘুষা করছে। জোয়ারের পানি বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে বাতাসের বেগও বাড়ছে। পদ্মার-ঢেউয়ের আঘাতে বাহির বাড়ির ঠাকুরঘর ভেঙ্গে যাবার উপক্রম। ভগবানের নাম জপতে জপতে এ যাত্রায় ঠাকুর রক্ষা করেছে, না হলে গাঙের জলে পতিমার মতো নিজেও বিসর্জন হয়ে যেতে হতো এতোদিনে। মন্দির রক্ষা করবার জন্য উপজেলায় কাগজ পত্র জমা দিলাম।...

মহাব্বত আলীর উপলব্ধি

মহাব্বত আলীর উপলব্ধি
 মহাব্বত আলীর উপলব্ধিপ্রকৌ. আমিনুল ইসলামমহাব্বত আলী এক ফার্মেসী থেকে আরেক ফার্মেসী ছুটছেন। থানা সদরের সব বড় বড় ফার্মেসীতে একটি ওষুধ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কোথাও তা খুঁজে পাচ্ছেন না।দুই মাস আগে মহাব্বত আলীর ঘর উজ্জ্বল করে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলো। প্রথম সন্তান বলে নাম রেখেছেন প্রথমা। গায়ের রং ধবধবে ফর্সা। দেখতে অবিকল মহাব্বত আলীর মত হয়েছে। তাই মহাব্বত আলীর আনন্দের সীমা নাই।এই আনন্দ তার বেশি...

পদাবলি : ০১

পদাবলি : ০১
 শিরোনামহীনমাজরুল  ইসলাম[কবি আসাদ চৌধুরী স্মরণে]কোনদিক থেকে একটা দমকা হাওয়া এসেসটান আমার কানে কানে বলে গেলআপনি দিকশূণ্যপুরের দিকে পা বাড়িয়েছেন।এই খবর শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।এখন প্রতিটি মূহুর্ত কাটে চোখের জলেকিন্তু আপনার শাশ্বত পঙতিমালাঅশ্রু মুছায় কিংবা অনুরণিত হওয়ায়কত-ই নাপ্রশান্তি এনে দেয়।বাজিদেলোয়ার হোসাইনলোকটা পাগল।নিজের সাথে হাসাহাসি আরমাতামাতির তুমুল বিরোধ নিয়ে সারা দেশ...

পদাবলি : ০২

পদাবলি : ০২
 অপূর্ণতা এ এম তোফায়েল তাঁকে নিয়ে আমি কতো কবিতা লিখি, হয়তোবাসে জানে হয়তোবা জানে না! হয়তোবা সে দেখে হয়তোবা দেখে না! তাঁকে ঘিরেই আমার কতো আয়োজনতাঁকে ছাড়া সকল আয়োজন অপূর্ণ থেকে যায় কেমন! যে ফুল অবেলায় গেছে ঝরেতাঁর জন্য মানুষ কি যুগ যুগ ধরে কেঁদে মরে? প্রকৃতি যেমন শূন্যস্থান পছন্দ করে না তেমনি প্রকৃতির কল্যানেই শূন্যস্থান পূরণ হয়! তাঁকে নিয়ে আমি কতো কবিতা লিখি, হয়তোবা সে...

পদাবলি : ০৩

পদাবলি : ০৩
 রূপকথানজর উল ইসলামরোদ্দুরের গা-ধরে উঠতে চেয়েছি, মন-নুপুর ভেঙেছেকাদামাটির লেপন বরাবরই স্মৃতিভ্রষ্ট হয় দেখেওলজ্জার মাথা খেয়ে ফের উড়ন্ত হাওয়াকে বলেছিযোজনা-প্রীতি থেকে আলাদা করে দাও কারণ, এমন ভাসান হয়তো বা নিতে পারবো না আদি থেকেই চুষে খাচ্ছো স্তন ও ঠোঁটের মধুমনফাটলের গভীরতায় চোখ রেখে দেখি বিস্তর ফন্দিনিপুন নিভৃতিহীন শুধু চাবুকেই শেষ কথা বলেছে আটকে গেছে সমস্ত সন্ন্যাস বোধ, প্রীতি যে...

পদাবলি : ০৪

পদাবলি : ০৪
 জলের ঝলকানিতে মিলন ইমদাদুলজলের ঝলকানিতে লাফিয়ে ওঠে ইলিশের দলশরীরে যার জলের স্পর্শ জলই তার একমাত্র প্রেম।আষাঢ় মাসে গাঙে থইথই উঠোন ভরা পানি কারেন্ট জালের ফাঁকে ফাঁকে ইলিশের ফালিআবুল মাঝি বেজায় খুশিমন করে উচাটন আম্বিয়া বিবির উঁকিঝুকিতে কমলার হাতহালি।নির্বাক শব্দ চাষিনুশরাত রুমুএকটি কবিতা, ফেনিল স্নায়ুতে যার উত্তপ্ত অঙ্কুরোদগম ..একটি কবিতা শব্দমালা খোঁজে ভূমিষ্ঠের অপেক্ষায়,কলমের...

পদাবলি : ০৫

পদাবলি : ০৫
 শীত আসবে বলেইরফিকুল ইসলাম শীত আসবে বলেই পৌষের শীতার্দ্র দাপটে পথের মতো তোমার পায়ের চিহ্ন আঁকে, হিমেল হাওয়ায় হলুদ পাতার মতো ঘরে ফেরে পাখি বিষণ্ন মেখে। শীত আসবে বলেই  ইচ্ছেগুলো শীতের সকালের মতো উষ্ণতা হারায় কুয়াশার আবরণে,আমার বিষাদগুলো লাল সূর্যের মতোক্লান্তিতে ডুবে সন্ধ্যার উদাসী রণনে। শীত আসবে বলেই ও চোখের কাজল, রাত্রি জাগে হিমঘরে কেঁদে...

রম্য গল্প : ডাক্তার সমাচার

রম্য গল্প : ডাক্তার সমাচার
 ডাক্তার সমাচার আকিব শিকদার আমাদের কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল সৈয়দ সানোয়ার স্যার একজন হাঁপানির রোগী। এজমাট্যিক সমস্যা। রোগ বেড়ে গেলে তিনি হাসপাতালে যান ঠিকই, তবে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকেন না। চেম্বারের সামনে বসে থাকা রোগীদের সাথে আলাপ করে দেখেন কার সাথে তার সমস্যা হুবহু মিলে যাচ্ছে। তারপর সে রোগী ডাক্তার দেখিয়ে এলে প্রেসক্রিপশন থেকে ঔষধের নামগুলো টুকে নিয়ে ফার্মেসি ঘুরে ঔষধ কিনে বাড়ি চলে...

বন্ধুত্ব

বন্ধুত্ব
 বন্ধুত্বতারিকুল আমিনসন্ধ্যা তারাগুলো আলো মেলে প্রবেশ করছে নিরুর ঝরোকার পর্দা ফুঁটো করে। সন্ধ্যা হলেই ঝিঁঝিপোকার আনাগোনা। মোরগের ডাক। তারপর হাসের প্যাক্ প্যাক্ শব্দ করে ঘরে ফেরা। দূরে বাতাসে ভেসে আসা শেয়াল প-িতের হুক্কাহুয়া শব্দ। আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যায়। সন্ধ্যার সাঁজবাতি জ্বালায় প্রতিটা বাড়িতে। চারপাশে খাঁ খাঁ অন্ধকার। তার ভিতরে দূরে দেখা যায় একটি জানালার কাছে কুপি বাতি জ্বলছে আপন ত্যাজে।...

শব্দমালা : আসিফ আহমদ

শব্দমালা : আসিফ আহমদ
 শব্দমালাআসিফ আহমদ মহানগরমুদ্রা বিলাপীর হাহাকার! নগরীর কুঠুরি হতে প্রাচীরে। এখানে মানবজনম থেকেও দ্বিগুণ, পাথুরে ভবনের জন্ম। তার সাথে সাথে কেমন নিরেট পাথুরে হয়ে উঠছে লোকেদের মখমলে মনটা!পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রকৃতি হত্যার মহোৎসব।বহুতলা ভবনের আধিপত্যে দেখা মেলে কই নীলিমার? প্রভাকরেরও সাক্ষাৎ নেই তাই।এখানে মানুষ আসে মুদ্রা অন্মেষণে,শেষে মুদ্রা হয়ে উঠে জলজ্যান্ত মানুষ।আর মানুষটা হয়ে যায় কচকচে নোট!হায়রে...