ধারাবাহিক উপন্যাস : রামবন্দনা : শাদমান শাহিদ : পর্ব ০৮



রামবন্দনা
শাদমান শাহিদ

(গত সংখ্যার পর)
সিদ্দিকি সাহেব কার্পণ্য করেননি। টাকা নিয়ে তিনি গোপনে ওসি সাহেবের সাথে দেখা করতে যান। ওসি সাহেবও টাকা রিসিভ করে বলেন, বাড়ি যান, দেখি কী করা যায়। সিদ্দিকি সাহেব বাড়ি চলে আসেন এবং পরদিনই শোনেন ওসি সাহেবকে প্রমোশন দিয়ে অন্য জায়গায় বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় আরেকজনকে নিয়োগ করা হয়েছে এবং সে-লোক উপরের ইশারার বাইরে একচুলও নড়ে না। তারপরও তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি বলেন, আপনারা তো সোহেল হত্যার বিচার চান, নাকি চান না?
আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই চাই।
তাহলে অপেক্ষা করুন। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি এবং আদালতে দশ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেছেন। আশা করছি ঠিক মতো প্যাদানি লাগালে খলখলিয়ে সব ক্লু বেরিয়ে আসবে।
আমরা বললাম, স্যার, আপনি কার কথা বলছেন?
কেনো? মাসুদ আহমেদ? আমরা নিহত সোহেলের মোবাইল থেকে রিসিভকল চেক করে দেখেছি, ঘটনার রাতে মাসুদ আহমেদ তাকে ফোন করেছিলো।
মাসুদ আহমেদ তাকে ফোন করতে যাবে কেনো?
মাসুদ আহমেদ ফোন করতে যাবে এজন্যে যে, তার ছোট বোন সাদিয়া আক্তার ঝিনুকের সাথে সোহেলের খারাপ সম্পর্ক ছিলো। তার সাথে রাত নিশিথে ফোনে কথা বলতো। সম্ভবত এ-কারণেই তিনি খুনটা করে থাকবেন।
পুলিশের মুখে এসব কথা শুনে আমাদের মাথা গুলিয়ে যায়। এর প্রতিউত্তরে কী বলতে হয় কিছুই মাথায় আসে না। তখন সাহস করে আমাকেই দুটো কথা বলতে হয়। বললাম, ওসি সাহেব, আপনারা কি মাসুদ আহমেদের ফোন কলটাও চেক করেছেন? অথবা উভয়ের ফোন কলে কী কথা হয়েছে, আমরা কি জানতে পারি? এমন তো হতে পারে, মাসুদ আহমেদ তাঁর বোনের বিষয়টা মেনে নিয়ে থাকবেন। হতে পারে তাদের সম্পর্কটাকে পারিবরিকভাবে জায়েজ করার জন্যে সোহেলকে ফোন দিয়ে থাকবেন।
ওসি সাহেবের মুখের ভেতর তখন চুন-জর্দ্দা-সুপারি মেশানো পানের রস বেড়ে যায়, তিনি ভোঁস ভোঁস করে বলতে লাগলেন—হতে পারে, আবার নাও তো হতে পারে। এমনও তো হতে পারে, তিনি নেতা হওয়ায় তাঁর কোনো সহযোগি ক্যাডারকে দিয়ে ঝিনুকের জীবন থেকে সোহেলকে সরাতে চেয়েছেন।
হ্যাঁ। আপনার এমন ধারণাকে আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এজন্যই তো বলছি, তাদের উভয়ের ফোন কলে কী কথা হয়েছিলো, সেটা আমাদেরকে জানান।
ওসি বলেন—না, তদন্তের স্বার্থে কোনো কিছুই এখন প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
আমাদেরকে তখন পুলিশের কথায় আস্থা রাখতে হয়। এবং পরদিন পত্রিকায়ও তাই ছাপা হয়। মানুষ পত্রিকায় সে রিপোর্ট পড়ে কিনা জানা যায় না। তবে সবখানে দীঘির তলার মতো নীরবতা নেমে আসে। দেশের কোথাও থেকে কোনো প্রকার প্রতিবাদ আসে না। আমাদের তখন মনে হয়, পুলিশ হয়তো সঠিক পথেই এগুচ্ছে। শত হলেও তারা আইনের লোক। আইনের লোক হয়ে গাইনের কাজ করতে পারে না।
এ বিশ্বাসের ফলে আমাদের স্মৃতিতে তখন সিনেমায় দেখা নীতিবান কজন পুলিশ অফিসারের চোখ-মুখ-শরীর-স্বাস্থ্য এবং তাদের প্রশংসনীয় কর্মযজ্ঞ নড়েচড়ে উঠলো। তখন রহিম মিয়ার চাখানায় চা-কাপে ঠোঁট বসাতে বসাতে একজন বললো, না, মনে অয় এই পুলিশটা ভালা। আমরা তার উপরে আস্থা রাখতে পারি। আরেকজন বললো, ঠিকই কইছো মফিজ ভাই, সবাইরে এক পাল্লায় মাপা ঠিক না। তাদের কথা-বার্তায় আমরাও আশ্বস্ত হয়ে একটা ভালো সংবাদের অপেক্ষায় থাকি। তখনই টিভিতে দেখি তালিকাভুক্ত শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মাসুদ আহমেদ (৪২) বন্দুকযুদ্ধে নিহত। আমরা তখন ঐ-চ্যানেলের কথা বিশ্বাস করি না। রিমোট হাতে চ্যানেল থেকে চ্যানেলে দৌড়াতে থাকি। সব চ্যানেলে একই খবর। তারপরও আমাদের বিশ্বাস হয় না। নিশ্চয় এ-মাসুদ আমাদের মহল্লার মাসুদ নয়। আমাদের মাসুদ তো পুলিশের হাতে। রিমান্ডে আছে। টর্চাররুমে পুলিশের প্যাদানি খাচ্ছে। তাঁর মুখ থেকে কথা বের করার জন্য যা করার দরকার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ তাই করবে। ইচ্ছে হলে তার পাছা দিয়ে গরম দেড়ইঞ্চি রড ঢুকিয়ে দেবে। আঙুলের নখ দিয়ে দশ ইঞ্চি লম্বা সুই ঢুকিয়ে দেবে। লোহার ডা-া দিয়ে পিটিয়ে তার সবকটা হাড় ভেঙে গুঁড়ো করে দেবে। তারপরও যদি কথা না বের হয় তখন পুলিশ নিজেই সুবিধা মতো একটা বক্তব্য ডিজিটাল রেকর্ডারে রেকর্ড করে তার নামে চালিয়ে দেবে। শুরু হবে সে-কথার জের ধরে পাইকারি গ্রেফতার। আমরা তখন বাসা-বাড়ি ফেলে ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইলের সীমানাটা পেরিয়ে যাওয়ার জন্য দ্রুত দৌড়াতে থাকবো।
এসব ভাবতে ভাবতে যখন আমাদের মনে এক ধরনের বায়োসাইকোসোশ্যাল প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছিলো, তখন মনে হলো আকাশের সূর্যটা দপ করে নিভে গেছে। মাথার মগজ খালি করে পালিয়ে গেছে আমাদের বাস্তবতাবোধ। মহল্লার জারুল গাছে যে-পাখিগুলো সারাক্ষণ কিচিরমিচির করে আমাদের অস্থির করে তুলতো, হঠাৎ দেখি একটা পাখিও নেই সেখানে। বাসা ভেঙে কোথায় যেনো চলে গেছে। তার বদলে বেড়ে যায় কুকুরের চিৎকার। ছাল-ওঠা ঘনঘনে ঘাঁ-যুক্ত যে-কুকুরগুলো মহল্লার ডাস্টবিনের পাশে চুপচাপ শুয়ে-বসে থাকতো, হঠাৎ দেখি এদের উৎপাত বেড়ে গেছে। আমাদেরকে দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে লেজ নাচাতে নাচাতে কী যেনো জানতে চায়। আমরা তখন কুকুরের ঘেউ ঘেউ থেকে বাঁচতে রহিম মিয়ার চা-স্টল থেকে বনরুটি কিনে কুকুরের দিকে ছুরে মারি। আশ্চর্যের বিষয় কুকুরগুলো সেসব ছুঁয়েও দেখে না। বরং আরো বেশি করে তেড়ে আসে। কেউ কেউ তখন তরকারি মেশানো ভাত বেড়ে দেয়, আঁ-উ-আঁ-উ, খাও-খাও। আদর করার চেষ্টা চালায়। তাতেও কুকুরগুলোর মন ভরে না, মহল্লার লোক দেখলেই তেড়ে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে যখন সবার অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি, তখনই এগিয়ে আসে মতিপাগলা (যাকে কেউ কেউ ছদ্মবেশি চরমপন্থী বলে সন্দেহ করে থাকে)। উদ্ধার করে আমাদের। ‘আঁ-ও-আঁ-ও’ করে ডাক দিলে কুকুরগুলো তার পায়ের কাছে গিয়ে লেজ নাচাতে থাকে। সে তখন কবি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের অমর ছড়াটা ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি/ সারাদিন আমি যেনো ভালো হয়ে চলি’—আবৃত্তি করতে করতে বনরুটি কুড়িয়ে কুকুরগুলোকে খাওয়ায়। এ-সময় কী কারণে যেনো রহিম মিয়াও আমাদের দিকে একবার আড়চোখে তাকিয়ে বিটলামি করার সুযোগ পায়। বলে, পাগলা ভাই, পইদ্যটা এইভা না বইলা এট্টু ঘুরায়া কও না। কও না—
‘সহালে উডিয়া আমরা মনে মনে বলি   
রাজনীতি ছাইড়া যেনো বোবা হইয়া চলি’
দমবন্ধ পরিস্থিতিতে কে কী বুঝেছে, বোঝা যায় না। যার যার অবস্থান নিয়ে ব্যস্ত সবাই। সংসারে ছেলে-মেয়েরা বড়ো হচ্ছে। ওদের আয়ের পথ সৃষ্টি করতে হবে। বিয়ে-শাদির জন্যে পাত্র-পাত্রী দেখতে হবে। আবার অনেকের শরীর-স্বাস্থ্যও তেমন সুবিধার মনে হচ্ছে না। তখন শর্দি-কাশি তো, পরক্ষণেই ডায়রিয়া। জ্বর একবার শুরু হলে সারতে চায় না। সে-সাথে ডায়াবিটিসের দৌড়ানি তো আছেই। সকাল-সন্ধ্যা নিয়ম করে দৌড়াতে দৌড়াতে একেকজনের নাভিঃশ্বাস অবস্থা। বলা যায় জীবন চলছে সমুদ্র-গহীনের ইঞ্জিনবিকল জাহাজের মতো। শুধু দারের উপর ভরসা। তখন একবারও মনে পড়ে না—একদিন আমরা মানুষ ছিলাম। আমাদের চোখের তারায় ছবি হয়ে থাকবে বলেই মহান পিতৃগণ জীবন বাজি রেখেছিলো একদিন। অসাম্যের পিরামিড ব্রাশ-ফায়ারে গুড়িয়ে সমতায় মেশাবে বলেই অস্ত্র হাতে চষে বেড়িয়েছিল টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। একবারও মনে পড়ে না— মানবিক পাখিগুলো সেই কখন বাসা ছেড়ে গেছে, এখনো ফিরে আসেনি সন্ধ্যার বাতাসে। মনে পড়ে না—এমন আত্মহারা হয়ে যাবো বলেই কি একদিন স্বপ্ন দেখে ‘বাংলাডেইশ বাংলাডেইশ’ বলে চিৎকার করে পৃথিবী কাঁপিয়েছিলো জর্জ হ্যারিসন? যে চিৎকার ধ্বনি শুনে আবাবিল পাখির মতো ঝাঁক বেঁধে উড়ে এসেছিলো বৈদেশিকমুদ্রা!
একদিন রেণু এসে বলে, আপা, চোখের মনি তো শুকিয়ে চাঁদলাশ। শুধু চেয়েই থাকি, দেখি না কিছুই। শুধু হাতড়ে বেড়াই সভ্যতার সেই দেয়াল, যেখানে আমাদের স্থান হবে সেই আশ্চর্য জাতি হিসেবে, যারা প্রাণ থাকা সত্ত্বেও লাশের অভিনয় করতে পারি অনন্তকাল। আমার মনে তখন মহল্লার চা-স্টলগুলো, খদ্দেরদের অভিব্যক্তি, গরম চায়ে চমুকে চমুকে উত্তেজনা, তাদের তর্ক-বিতর্ক। কেউ বলে—মাসুদ সন্ত্রাসীই আছিলো। সন্ত্রাসী না হইলে সে বন্দুকযুদ্ধে নামতে যাইবো ক্যান? বিনা কারণে কি পুলিশ তারে শহরের বাইরে নিয়া গেছিলো? নিশ্চয়ই এর মইধ্যে একটা ক্লু আছিলো, সেটা বাইর করবার লাগিই পুলিশ তারে শহরের বাইরে নিয়া যায়। যেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সঙ্গী-সাথীরা পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়। তারপরই না পুলিশ জান বাঁচাতে পাল্টা আক্রমণ করে। আরেকজন বলে—মালেক ভাই, যা বুঝো না তা বলতে যেয়ো না। মাসুদ তো এ-মহল্লারই ছেলে এবং আমাদের চোখের সামনেই বড়ো হয়েছে, নাকি? কোনোদিন কি দেখেছো সে কারোর সাথে খারাপ ব্যবহার তো দূরের কথা, কাউকে তুই বলে ডেকেছে? তখন উপস্থিত অনেকেই মাথা নাচিয়ে বলে—না, এমন কথা তার শত্রুও বলতে পারবে না। তার মতো ভদ্রছেলে আমাদের শহরে হাতে গোনা দশজন পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ। আবদুল মালেক দেখে—মালেক তখন ঘাবড়ে যায়। তার মানে কেউই খুনটাকে মেনে নিতে পারছে না। তখন সে এক প্রকার লাফিয়ে উঠে, ‘অতো ভদ্র মারাইও না। ভদ্র হইলে কি আর পুলিশের খাতায় নাম ওডে? সে যদি খুনটা না-ই কইরা থাকবে, তা হইলে মহল্লায় অতো লোক থাকতে পুলিশ শুধু তারেই টার্গেট করলো ক্যান? আর হাকিমও কোন বুঝে তারে দশ দিনের রিমান্ড দিলো? অপেক্ষা করো, তলের বিলাই ঠিকই বাইর অইবো। মহল্লায় কারা কারা রাজাকারগিরি করে বেড়ায়, সবই জানি। এইসব রাজাকারদের কারণেই মহল্লায় উন্নয়ন আয়ে না।’ ‘আন্দাজি কতা কইও না মালেক। রাজাকার থাকলে তোমার বংশে আছে। দুদিন আগেও তো তোমার চাচা মোতালেব ব্যাপারি জাতির পিতা-দেশরতœ-বঙ্গকন্যা ইসব শব্দ লইয়া ঠাট্টা-মশকারা কইরা বেড়াইতো। এখন মুক্তিযুদ্ধের সনদখান পাইয়া রাতারাতি দেশ প্রেমিক হইয়া গেছো গা, না? তুমরাও তো কয়েকদিন আগে বিএনপি করতা। এখন দল পাল্টায়া বড়ো বড়ো কথা কও। পাইকারি সবাইরে রাজাকার কইয়া বেড়াও।’
ফুল মিয়া সরদারের মুখ থেকে কথাগুলো শোনার পর মালেকের অবস্থা তাপহীন ভাতফেনার মতো। এদিক-ওদিক বার কয়েকবার তাকায়। না, কোথাও তাপ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সে কি তখন পাল্টা উত্তর দেবে? নাকি চুপ থাকবে, বুঝতে পারে না। আবার কথা বলতে গেলেও বিপদ। ফুল মিয়া সরদারের ছেলেরা শুনলে আস্ত রাখবে না। শুধু লাঠির জোরেই টিকে আছে লোকটা, না হলে অনেক আগেই সিস্টেমে ফেলে সাইজ করা যেতো। এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে আস্তে করে কেটে পড়ে। সে চলে যাওয়ার পর অনেকেরই ধড় সোজা হয়ে যায়। জনতা ব্যাংকের ক্যাশ ম্যানেজার আবু তাহের বলে—‘মাসুদ যদি সন্ত্রাসী হয়েও থাকে, তাহলেও তো তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। সে সমাজ বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজ করে থাকলে, তার জন্যে আইন আছে। আদালত আছে। সেখানে আইনের ভিত্তিতে তার বিচার হবে। কিন্তু পুলিশ যা করেছে এটা কোনো মতেই আইনসিদ্ধ নয়। আইনের বাইরে কোনো কাজই পুলিশ করতে পারে না।’
ক্ষিতিশপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ওমর ফারুক বলে—ঠিক পয়েন্ট ধরছো তাহের ভাই, ‘পুলিশের কথায় এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না। এ-পর্যন্ত পত্র-পত্রিকায় মহান বন্দুকযুদ্ধের যতোগুলো খবর বেরিয়েছে, সবকটাতেই দেখা গেছে; একতরফা রেজাল্ট। সবকটাতেই কেবল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত বন্দি নিহত হয়েছে। এর বাইরে পক্ষ-বিপক্ষের কেউ নিহত হওয়া তো দূরের কথা কারো গায়ে সামান্য আঁচড় পর্যন্ত লাগেনি। এমনকি কোনো যুদ্ধে রণভঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের কাউকে আমাদের সুদক্ষ পুলিশ বাহিনি গ্রেপ্তার করেছে বা তাদের কোনো একজনের কোনো প্রকার আলামত হস্তগত করতে পেরেছে, এমন খবরও কোথাও ছাপা হয়নি। তবে কি আমরা ধরে নিবো যে, আদতেই তারা কোনো মনুষ্যসন্তান ছিলো না, তারা ছিলো ভিনগ্রহ থেকে উড়ে আসা এলিয়েন অথবা শ্মশানবাসী ক্ষুধার্ত কোনো ভূত-প্রেতের দল।’
‘অপেক্ষা করেন, দিন একবা যায় না, আমাদেরও সময় আসবে।’ চা-কাপে লিকার ঢালতে ঢালতে বলে রহিম মিয়া।
(চলবে)

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট