পদাবলি : ০১

 



শুধু তোমাকে ভালোবাসি 

রৌদ্র রাকিব 


বহুবার বলেছি; বহুকাল অপেক্ষা করেছি; 

বহুদিন দেখেছি; বহুবার কতকথা শুনেছি; 

শুধু তোমাকে ভালোবাসি বলে।


তবুও ভালো আছি; তবুও বেঁচে আছি; 

তবুও হাসিখুশি আছি; তবুও সুখে আছি;

শুধু তোমাকে ভালোবাসি। 


তুমি চলে যাও- তুমি ভুলে যাও!!

তুমি কিছু রেখে যাও- তুমি হারিয়ে যাও- 

শুধু তোমাকে ভালোবাসি।




চলে যাবো

মাসুদ পারভেজ 


তোমাদের এই ঝঞ্ঝাট জমকালো কৃত্তিম কোলাহলপূর্ণ শহর ছেড়ে চলে যাবো,

চলে যাবো তোমাদের দেয়া কবি নামের এক অভিশাপ নিয়ে

জানো তো, কঠিন দুঃখবোধ না থাকলে নাকি কবি হওয়া যায় না,

আমি আজীবন সে প্রয়াস চালিয়ে যাবো।

যদিও তোমাদের প্রতি অনেক অভিযোগ আছে আমার, অনেক কথা বলবার আছে;

বলবার আছে- তোমাদের শহরে পাখিদের ঠাঁই নেই, বৃক্ষ নেই, সহস্র মানুষের ভেতর একটিও মানুষ নেই।

সুন্দরী অনেক ললনা আছে একটিও প্রেমিকা নেই,

অনেক অনেক প্রেমিকা আছে একটিও প্রেম নেই।

অনেক পুরুষ আছে কিন্ত একজনও বিশ্বস্ত সঙ্গী নয়।

তোমাদের শহরে সবুজ বিছানি নেই আছে চকচকে মার্বেল পাথরের অহংকার।

পুকুরের বা নদীর ঘোলা পানি নেই আছে পিত্তরংয়ে সুইমিংপুল।

তোমাদের দালানগুলো আকাশ দখলে নেওয়ার প্রতিযোগিতা এখন চরমে।


বলবার আছে তোমাদের শহরে গণহারে মানুষ মেরে গণতন্ত্রের চর্চা হয়

নারীর যৌনতার আবাদ করে নারীবাদের চর্চা হয়।

বেতনধারী স্বীকৃত বুদ্ধিজীবীদের পানশালা হয় রাজদরবারে।

চলে যাবো এই কাগজে প্লাস্টিকে মোড়ানো শৌপিচের অভিনয় ছেড়ে।


তোমাদের কুকুরগুলো নাকি নবজাত মনিষ্যপুত্রেরও বেশি আদর অভিলাষ নিয়ে লালিত হয়।

তোমাদের অভিজাত শোবার ঘরে, বারান্দায় কুকুরের আশ্রয় থাকতে পারে একজন কবির নয়।

তোমাদের দালানের ছাদে বায়োপ্ল্যাগে মৎসকুলের অভিশাপ নিয়ে আমি এক মুহুর্তও থাকতে চাই না।


আমি সবুজ পাতার ফাঁকে বেরিয়ে আসা একমুঠো রোদ্দুরের জন্য চলে যাবো,

ঝিলে ফোটা রক্তকমলের পাশে মিটিমিটিয়ে হাসা একটুকরো চাঁদের জন্য চলে যাবো।

চলে যাবো ছাগলছানার তিড়িং-বিড়িং নাচের খোঁজে অথবা গরু বাছুরের নিষ্পাপ চাহনির জন্য।

নীল আকাশের তলে দলে দলে পাখির ডানা মেলা সুন্দরের জন্য

চলে যাবো সবুজের আঁচল ছিঁড়ে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া নদীর জন্য।

চলে যাবো সোঁদামাটি, পলিমাটির গন্ধে ভরা মানুষের কাছে,

চলে যাবো একটি স্নিগ্ধ বিকেল এর কাছে

চলে যাবো শিশির ভেজা একটি সকালের কাছে

চলে যাবো একটি সুন্দর নিশ্চুপ নিশ্চল নিষ্পাপ পৃথিবীর কাছে।



প্রেমিক বলতে এখনো তোমাকেই বুঝি

রফিকুল নাজিম 


অনেকদিন হয় তোমার নাগাল পাই না

কই পালাইছো? 

আমাদের এইদিকে কি আর আসো না?

কেরামতের টং দোকানের চায়ের তৃষ্ণা মিটে গেছে

তোমার রং চায়ের নেশাটা কেটে গেছে?

আজকাল কি তবে দুধ চায়ে ঠোঁট ভিজাও?


জানো?

এখনো সেই শালিকটা বিকেলে আমার বারান্দায় আসে,

রেলিংয়ে বসে। তারপর আমার চোখে মায়া মেখে দেয়

আমি এটা ওটা খেতে দেই, 

শালিকটা ঠোঁট বাড়িয়ে খায়।

আহা! উড়াল পাখিটাও আমার পোষ মেনেছে; 

কেবল তোমাকে আমার বশে আনতে পারিনা,

কেবল তুমি আসো না,

কেন্ আসো না, নাগর?

অথচ আমি নিয়ম করে বারান্দায় আসি

আড়চোখে ইতিউতি তোমাকে খুঁজি

তবুও কোত্থাও তোমাকে আর পাই না।

আচ্ছা-তুমি কি এখন অন্য মহল্লায় যাও

হাতে ফুল নিয়া কি অন্য গলিতে দাঁড়াও

অন্য কোনো বারান্দার দিকে বিড়ালের মত মুখ দাও?

চুকচুক করো?

কার জানালার পর্দা গলিয়ে অন্দরমহলে চোখ বাড়াও?


অথচ আমার চোখ কেবলই তোমাকে খুঁজে... 

আকুলিবিকুলি মনটা তোমাকেই প্রেমিক মানে; 

অন্য কোনো সিটি প্রেমিক সে খোঁজে না

প্রেমিক বলতে এখনো সে শুধু তোমাকেই বুঝে।



স্বকীয়তা হারিয়ে

জহির খান


ঝড়ের বেগে চলছে সময়

অসমাপ্ত গল্পের পিছনে


তবুও নিষ্ঠুর গল্পের নায়ক

দেখার চেষ্টাই করলো না তোমাকে!


শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট