জাকি হোসেন কামাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাকি হোসেন কামাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

একুশের পদাবলি : ০২

একুশের পদাবলি : ০২

 



একটি ট্রেন

লাভলী ইসলাম 


চলন্ত ট্রেনের বগী গুলো ছুটে চলে 

হুইসেল দিয়ে আপন মনে ধাবমান গন্তব্যের পথে 

চলতে পথে কোথাও থেমে যায় ক্ষনিক স্টেশনের উঠোনে 

কাউকে বিদায় দিয়ে নতুন কাউকে হৃদয়ের ঘরে বসতি দিয়ে ফের ছুটে চলে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ।

রেললাইনের লোহার সংঘর্ষে এ পথ সেপথ এ শহর সে শহর করে করে দিনের কর্মক্লান্ত দেহটাকে পরিত্যক্ত করে ফেলে রাখে স্টেশনের অচল কোন জং ধরা লাইনের পরিত্যক্ত লৌহদানবের উপর ।

হয়ত নতুন ভোরে নতুন কোন রেললাইনের পথ ধরে চলবে ট্রেনটি নিজের দেহটাকে টেনে হেঁছড়ে ।

আবার রাত আসবে আবার হইত হবে ভোর 

এত এত প্রয়োজন তার করতে পারাপার

হায় ট্রেনটা অচল হলে কখন কোনদিন ও কেউ নেয় না আর তার খবর  !!



একুশে ফেব্রুয়ারি

সোহেল রানা 


‘ভাইয়ের বুকে লেগেছে বুলেট’......


তাজা রক্ত! তাজা রক্তে-ভেজা-বুক...!

শত-সহ¯্র প্রাণের উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত, রক্ত-ভেজা-মুখ!

যেন গোধূলির লালিমামাখা সূর্যের নির্মলতর রূপ।

প্রিয়সীর সজলচক্ষু আর বোনের চোখে অগ্নিশিখা --!

শান্ত সাগরের বুকে রক্ত¯্রােতে দাঁড়িয়ে মা!

পাহাড়ের বুকে শূন্যতায় খাঁ-খাঁ হৃদয়ে বাবা!

সাগরের বুক থেকে আর পাহাড়ের হৃদয় 

ঝাঁঝরা করে কেঁড়ে নিয়েছে যে দানবে...


আকাশ গহীন অন্ধকারের অতলে, 

নক্ষত্র শোকে বিবর্ণ আলোকে -- সেই আলোকে

মোমবাতির ঝড়োকান্না এলোমেলো-এবড়োথেবড়ো শিখায় জ্বলছে --

শত-সহস্র জনতা হয়েছে জড়, ধরণী পরিব্যাপ্ত;

যতোরকমের বাগানের ফুল হাতে নিয়ে, অপেক্ষার প্রহরে --

‘বক্ষপিঞ্জর’ যেন চন্দনকাঠের চিতায় দাউ দাউ জ¦লছে...!

সেই আগুন ঢেলে দেবে! কখন রাত্রির মধ্যপ্রহর অতিক্রম করবে

সেই আগুন ঢেলে দেবে!


ভোর; 

আকাশে রক্তের গন্ধ! 

ধূসর ডানার চিল এলোমেলো, মাতালের মতো!

বাতাসে করুণ স্পন্দন ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত --

মা আর বাবা হারিয়েছে বুকের ধন! 

ডপ্রয়সী ভালবাসার জন! 

ভ্রাতৃ, ভ্রাতা! ভ্রাতা, সহোদর! 

স্বজন হারিয়েছে আপনজন!

ভাষার জন্য যাঁরা দিয়েছেন জীবন!


প্রেয়সী, শীতে-ভেজা কানাকোয়ার চোখে-

যেমন শীতের রাতে বেতঝোপের শীষে ডুবায়

আটকা-পড়া কানাকোয়া রাতভর ছোটাছুটি

করতে-করতে-করতে সকালে নির্জীব, শক্তিহীন;

জীবন আছে তবু প্রাণ নেই! 

শুধু ‘সজলচক্ষু’ স্থিরচিত্তে দাঁড়িয়ে- পলক পড়ছেনা সেই চোখে;

ভ্রাতৃ দাঁড়িয়ে আছে এবড়োথেবড়ো চুলে; তার

চোখের লেলিহান অগ্নিশিখায় ধুলো বাষ্পের ন্যায় উড়ছে...


ভাইয়ের বুকে লেগেছে বুলেট! 

ঢেলেছে তাজা রক্ত! কেঁড়ে নিয়েছে প্রাণ!

ভাইয়ের বুকের বিদ্ধ বুলেটে, সহোদরের হৃদয় খান খান...!


কপালে কাফনের কাপড় বাঁধা- রক্তভা!

বুকে শোকের চিহৃ!




বাঙালি নদী

জহির খান 


তোর মায়ায় জড়িয়ে জাতি-বর্ণ চিহ্নিত প্রেম

আমার আজন্মকাল

মায়াময় তোর দেহে উঠে আসে

পশ্চিমাঞ্চলের ¯্রােত ও সময়...


আহ্ কি মায়ায় এই শহরের অসংখ্য জীবন

উঁকি মারে ঢেউ খেলে জরায়ুর খুব গহিনে


তবু এমন সব জলের কথোপকথন 

নামমাত্র মুল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে 

বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার অতীত...


আর 

ভুলবাল ঠকঠক করে কাটাই সময় সরকার 


এখন বাঙালি নদী আমায় নিয়ে চলো 

তোমার জলে কিংবা ডাঙায় বর্তমানে 

যেখানে মৃত কোন গল্পের নায়ক নেই

আছে জেলে আর তাঁতিদের গভীর প্রেম

আর বুননকৌশল আবিষ্কার ইতিহাস...




হেলায় কাটাও দিন

জামান আহম্মেদ ইমন


কেমন করে যেতে চাইছো

কাগজের নৌকায় বাড়ি,

মাঝি বিনাই, বৈঠা বিনাই

পারবে কি দিতে পাড়ি।


আকাশে পানি মধ্যে মাটি

তার নিচে পানি,

ভাসমান এই পৃথিবীর মাঝে

পড়ছো না বাণী।


রূপের জালে বন্ধি হইয়া

চলছো ভুলের পাড়ায়,

আসিলে আজরাইল কারো জন্য

এক মূহুর্ত কি দাড়ায়।


জীবনের গন্ডি যাচ্ছো পেরিয়ে

হেলায় কাটাও দিন,

অসময়ে পাখি উড়াল দিলে

শোধ হবে নাকো ঋণ।



ঝরছে পাতা মন থেকে 

মজনু মিয়া 


শীতের ঝির্ণতা মনকে বেদনাবিধুর করে দেয়

ক্লান্ত অবসন্ন শরীর তীব্র ক্ষোভে ভারাক্রান্ত! 

নিরলসভাবে গাছের পাতারা হলুদ হয়ে

ঝরে পড়ছে, কান্নার আকুতি লুকাতে ব্যার্থ মন।


একাকী পিরিতের চুলায় অনল জ¦লে উঠে

ধোঁয়া কুন্ডলী পাকাইয়া বিতৃষ্ণ করে দেয় মন;

যাপিত জীবনে পরিযায়ী পাখির মতো দৌড় 

তবুও দুদ- সময় নেই, কাউকে বুঝিয়ে বলবার।


অবুঝ মন থেকে কত ক্ষণ কত দিন মাস বছর

ঝরে যায়, কেউ খবর রাখে না। শীতের করচা করি।


আলতার রং লাল

আলতার রং লাল

 



আলতার রং লাল

মুনিম রাব্বী


অমাবশ্যার বুনো অন্ধকার । মাঝ রাতের এই গভীর আঁধারে যেন গ্রামটা অনন্তকাল ধরে ঘুমিয়ে আছে । আঁধার ডিঙ্গিয়ে কতকাল সূর্যও ওঠে না মনে হচ্ছে । এমন ঘুমন্ত রাতই আদর্শ আলতা চোরার জন্য । বছর দুয়েক আগে এই গাঁয়ে এসেছিল আলতা। সেবার ধরা খেয়ে বেদম পিটুনি খেতে হয়েছিল । ধরা অবশ্য খেতনা । সামান্য ভুলটুকু না করলে আলতাকে কেউ আর হাতের নাগালে পেতনা । এখনও সে রাতের কথা মনে পড়লে খুব আফসোস হয় । এই দুবছরে আলতার হাত আরও পেকেছে । স্বয়ং অধীশ্বরও যেন ওর হাতের গতিবিধী বুঝতে পারেন না । 

আলতা এখন অন্ধকারে আরও ভাল দেখতে পায় । আলতা গ্রামে ঢুকল । বৈশাখের ছিন্ন বাতাসও তার অস্তিত্ব টের পেলনা । গোলাম ভাই গতকালই বিদেশ থেকে এসেছে । অন্য চোরদের কাছে এই খবর পৌছানোর আগেই আলতাকে কাজ শেষ করতে হবে । গোলাম ভাই খুব ভাল মানুষ । বছর পাঁচেক আগে গোলাম ভাই যখন বিদেশ যাচ্ছিল তখন রাস্তায় আলতার সাথে দেখা হয়েছিল । আশেপাশের দশগ্রামে আলতার হাতটানের নাম-ডাক তখনও ছিল । তা জানা স্বত্বেও গোলাম ভাই আলতাকে ডেকে একশ টাকার নোট ধরিয়ে বলেছিল , আলতা আর এসব কাম কাইজ করিস নে । এই নে ধর টাকাটা । আমার জইন্যে দোয়া করিস । আলতা কচকচে একশ টাকার নোট হাতের মধ্যে গুজে গোলাম ভাইকে একটা ছালাম দিল । আর বলল , ভাই আমি ওসব কাম কবে বাদ দিয়ে দিছি । আপনি কি বিদ্যাশ যাচ্ছেন ? হরে ভাই । ওটাই ছিল গোলাম ভাইয়ের সাথে আলতার শেষ কথা ।  

গোলাম ভাইয়ের দরজার সামনে এসে আলতা হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল । গ্রামের গরীব আর অভাবী মানুষের জন্য গোলাম ভাই কম করেন না । সামনের চেয়ারম্যান নির্বাচনে দাঁড়াবে শোনা যাচ্ছে । তাঁর ঘরে চুরি করায় আলতার মন সায় দিচ্ছেনা পুরোপুড়ি । ঘরের দক্ষিণে আমগাছের গোড়ায় বসে একমনে ভাবছে আলতা । হাতে টাকা-পয়সার বড্ড অভাব । চুরি না করলে না খেয়ে মরতে হবে । আচ্ছা , গোলাম ভাইয়ের কাছে কিছু সাহায্যও তো চাইতে পারে সে । এমন কিছু ভাবতে ভাবতেই সব নিস্তব্ধতা যেন ভেঙে গেল । আলতা দৌড়ে পালাবে , এমন সময় অদ্ভুত গোঙানীর আওয়াজ শোনা গেল । শরীরের সব শক্তি দিয়ে কেউ একজন চিৎকার করতে চাইছে কিন্তু সেই আওয়াজ তার গলার ভিতরেই আটকে আছে । আলতা দাঁড়াবে না পালাবে বুঝতে পারছে না । জানালার এক পাশের পাল¬া হালকা হা হয়ে আছে । আলতা সাবধানে উঁকি দিতে গেল । ঠিক তখনই কেউ একজন তার পিঠে খোঁচা দিল । আলতা হচকিত হয়ে পিছন ফিরে তাকাল । গামছা দিয়ে মুখ জড়ানো । তার উপরে তাজা রক্তে লাল হয়ে আছে  পুরো মুখ , শরীর । লোকটি একটি বড় ছোরা আলতাকে দিয়ে বলল, একদম খালের মইধ্যে ফেলবি, কেউ যেন টের না পায় । যাহ , তাড়াতাড়ি । আর সপ্তাহ খানেক আমার সাথে দেখা করনের কাম নাই । যাহ । 

আলতার চোখ পাকা মরিচের মত লাল হয়ে গেছে । আলতা কিছুই জানে না এসবের , কিন্তু কিছু না জেনেও সব কিছু জানার ভান করা ছাড়া আর কোন উপায়ও নেই । আলতা ছোরা নিয়ে বিলেতি ঘোড়ার মত গলা লম্বা করে দৌড় দিল । আলতা দৌড়াতে পারে । এক্ষেত্রে দশ গ্রামে তার সমকক্ষ কেউ নাই । এক দৌড়ে দুই তিন গ্রাম পেছনে ফেলতে পারে । কিন্তু আজ কি হলো আলতার ? আলতা হাঁপিয়ে যাচ্ছে । পালনোর জন্য মানুষ নির্জন অথবা গোপন জায়গা খোঁজে, আর ভয় পেলে খোঁজে আশ্রয় , লোকালয় । অন্যদিন হলে আলতা লোকালয় এড়িয়ে যেত । কিন্তু আজতো সে পালাতে চাইছে না । তার চাই আশ্রয় । লোকালয় । এবারও আলতা অজান্তেই আরও একটি ভুল করে বসল । ভয়ার্ত আলতা কখন যেন লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে । একদম আমজাদের চায়ের দোকানের সামনে এসে মুখ থুবড়ে পড়ল আলতা । আমজাদের দোকান মাঝ রাত অব্দি খোলা থাকে । কোন কোন দিন সারারাতই খোলা থাকে । সেরাতেও ঝাঁপ বন্ধ করে তাসের আড্ডা জমেছিল আমজাদের দোকানে । আলতার পায়ের শব্দে সবাই বের হয়ে আসল । আলতা উন্মাদের মত পড়ে আছে । ওর বুকের ছাতি নদীর ঢেউ এর মত উঁচু হচ্ছে আবার নিচু হচ্ছে । সবাই এসে আলতাকে ধরল, কিন্তু একি ? আলতার হাতে তাজা রক্ত । পাশেই পড়ে আছে রক্তাত্ব একহাত ছোরা । কেউ একজন আলতার হাত পা শক্তকরে বেঁধে ফেলল । আলতা চোরা খুন কোরছে । ওরে শক্ত কইরা বাঁধ ! শুকনো মেহগনির ডাল হাতে কালো চেহারার একটা লোক, আলতার পশ্চাতে একটা কসিয়ে বারি দিয়ে জিজ্ঞেস করল, কারে খুন করছস তুই ? আলতা লোকটির চোখের দিকে তাকাল ।

পিঠ ঠেকিয়ে গাছের সাথে বাঁধা আলতার পুরো শরীর । অপরাহ্নের সূর্যমূখী ফুলের মত মাথা নিচু হয়ে আছে । এমন মার খাওয়ার জন্যেই জন্ম হয়েছে তার । এখনও দুই কিস্তি কিল ঘুশি হজম করতে পারবে সে । কিন্তু কই, কেউ’ই আর আলতার গায়ে আর হাত তুলছেনা । লাল চোখা সেই ছিমছাম শরীরের লম্বা লোকটি, সেও হাঁপিয়ে গেছে বোধয় ।  

বেলা অর্ধেক গড়ানোর আগেই একটি জিপ গাড়ি নিয়ে পুলিশ আসল । প্রথমে জনা দশেক এবং এই মাত্র আরো দশ জন পুলিশ আসল । সাথে আরও দুই তিন গ্রামের মানুষ । পাই পাই করে খুজেও কোথাও কোন লাশ পাওয়া গেল না  । সকাল থেকে শুধু গোলাম ভাইকে পাওয়া যাচ্ছে না । গোলাম ভাইয়ের’ই যে কিছু হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নাই ।

পুলিশ এসে আলতাকে দুই এক ঘা দিতেই আলতা কেকিয়ে উঠল । ওর শরীর কাপছে এখন । এই লাশ কোথায় হাওয়া হয়ে গেল । লাশ না পওয়া পর্যন্ত যে তাকে বেদুম পিটুনি খেতে হবে এতে কোনো ভুল নেই । অনাগত দুই এক দিনের জন্য বড্ড ভয় হচ্ছে আলতার । আলতার বউ এল কাঁদতে কাঁদতে । একের পর এক যা ইচ্ছা তাই বলে যাচ্ছে ।  এই কাজ করতে গেলা ক্যান মুনতার বাপ ? মানুষ মারবার গেলা ক্যান ? আমি যদি আগে জানতাম তোমারে ঘরে আটকায়ে রাইখতাম । আলতা কোন ক্রমে বউয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, বউ এইসব কথা কইস নে ! আমি চোর , খুন করা আমার কাম না । আমি খুন করি নাই । 

আলতার চারপাশে এখন গ্রামের অর্ধেক মানুষ । সাধারনত চেয়ারম্যানের বড়সর জনসভাতেও এর চেয়ে কম মানুষ হয় । এর আগে অন্য সময় গুলোতে আলতা টানা মার খেয়েছে । এইবার সেই তুলনায় অনেক কম । উচ্চতর অপরাধে অভিযুক্ত আলতা বুঝেছে মাইরও ক্লাসভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয় । তবে এ যাত্রায় গোলাম ভাইএর লাশ না পাওয়া গেলে রক্ষে নেই । এলাকার গন্যমান্য সবাই উপস্থিত । মেম্বার সকাল থেকেই এখানে হাজির । চ্যেয়ারম্যান সাহেবও চলে আসবে ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ।   সবাই এসে  আলতাকে কড়া করে জিজ্ঞেস করল, এরে আলতা, ভালয় ভালয় কইয়া দে,  গোলামের লাশ কই রাখছিস ? 

আলতা শুকনো মুখে ভয়ে ভয়ে মাথা তোলে । আমি গোলাম ভাইরে মারি নাই । বলতেই কয়েকজন অতি উতসাহি, পোক্ত লাঠি দিয়ে আলতাকে মারতে তেড়ে গেল । পুলিশের কন্সটেবল কোন রকমে তাদেরকে সামলে নিয়ে আলতার দিকে এগিয়ে গেলেন । আলতাকে কান ধরে টেনে উপড়ের দিকে তুলে ফেললেন । আলতা যন্ত্রণায় হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল । স্যার স্যার, মাফ করেন, আমি যা জানি তাই কবো । স্যার !

আলতার কোন কথাতেই কারো মন ভরে না । সময় গড়িয়ে যাচ্ছে । আলতা যেন পুরো গ্রাম আর এক কুড়ি পুলিশদের নিয়ে খেলছে । সারাদিন কয়েক কিস্তি মার খেয়ে আলতা সত্যি সত্যি বেশ ঝিমিয়ে পরয়েছে । তার মধ্যে সারাদিনই এক প্রকার না খাওয়া । কয়েকগ-াস পানি আর একটা বনরুটি ছাড়া কিছুই পরেনি পেটে । আলতা ও মনে মনে চাইছে গোলাম ভাইয়ের লাশটা যেন পাওয়া যায় । ওটা পাওয়া গেলে পুলিশ তাঁকে এখান থেকে নিয়ে যাবে । কিন্তু না, এতক্ষণেও গোলাম এর কোন হদিস পাওয়া গেলনা । 

শেষ বিকেলে একটা ঘটনা ঘটল । গ্রাম জুড়ে সবাই হা হবার জোগাড় । নিস্তব্ধ গ্রাম থেকে যেন হঠাৎ হৈহৈ রৈরৈ আওয়াজ শোনা গেল । ক্লান্ত, শ্রান্ত পাখি গুলো বিছলিত হয়ে উড়তে লাগল । গোলাম ভাই ফিরা আইচে । গোলাম ভাই মরে নাই । আগে আগে চার পাঁচ জন অল্প বয়সী এই বলে বলে ছুটে আসতে লাগল । পিছনে ছোট খাটো একটা বহর নিয়ে ধাই ধাই করে এগিয়ে আসছেন গোলাম ভাই । 

সত্যি, গোলাম ভাইএর স্পষ্ট মুখ দেখা যাচ্ছে । হালকা লাল রঙের পাঞ্জাবী পরা । তার চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ । ও চোখে ভয়ের লেশমাত্র নেই । গ্রামের সবাই অবাক । গোলামের পরিবারের কেউ কেউ তো গোলামকে দেখে জ্ঞানই হারিয়ে ফেলেছে । আলতা বউ এর দিকে তাকায় । শত যন্ত্রণা পাশকাটিয়ে আলতার মুখে হাসির মৃদু একটা রেখা ফুটে উঠল । বউ, আমি তরে কইছিনা, আমি গোলাম ভাইরে মারি নাই । আলতার বউ আচল গোজা মুখে আলতার কাছে এগিয়ে এলো । নাক মুখের রক্ত আলতো করে মুছতে মুছতে বলল, এ কতা জোর গলায় আগে থেকেই কতি পাইরলেনা ?

কইতি তো চাইরে বউ, যত জোরে কইতি যাই মাইনশে তত জোড়ে পিডায় । তুই বাড়ি যা । মাইয়াডা তরে খুঁজব । এহন আর ভয় নাই । গোলাম ভাই ফিরা আইচে । শুকনো চোখে টনটনে জলে আলতার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে । তবুও গোলাম ভাইয়ের চেহারা স্পষ্ট দেখতে পায় সে। যুদ্ধ ফেরত বিজেতার ভঙ্গীতে বীর দর্পে এগিয়ে আসছে গোলাম ভাই । একটা লোক গোলাম ভাই এর  পিছনে পিছনে তাল মিলিয়ে একবার হাটছে আবার ছোট ছোট পায়ে দৌড়াচ্ছে কিন্তু গোলাম ভাইকে অতিক্রম করছে না । নিশ্চিত ভাবেই গোলাম ভাইয়ের এই নতুন সাগরেতকে গ্রামের কেউ আগে কখনও দেখেনি । আলতার কিন্তু তেমন মনে হচ্ছে না । চোখটা বড্ড চেনা চেনা । ওই টক টকে পাষ- চোখ দেখেই যে প্রাণভয়ে গত রাতেই পালিয়েছিল আলতা ।



আলতার মুখ লাল হয়ে আসে । চোখ মুছতে মুছতে ফিরে যেতে থাকে আলতার বউ । যেতে যেতে অজানা আশঙ্কায় বারবার পিছন ফিরে তাকায় আলতার বউ  । ভাবে কেউ যদি গাঁয়ে হাত দেয় তো দৌড়ে গিয়ে পিঠ পেতে দেবে । আপাতত আর তেমন লক্ষণ পায় না আলতার বউ । ধীরে ধীরে আলতার বউ আলতার চোখের আড়ালে চলে যায় । লম্বা লাল চোখা লোকটির চোখে চোখ পড়ে আলতার । আলতার চোরা মশ্তিষ্ক কি ঘটছে বা কি ঘটবে কিছুই বুঝতে পারে না । এখন ধরে আলতার গায়ে কেউই হাত তুলছে না । কেউ কেউ তার দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু কিছু জিজ্ঞেসও করছেনা । 

গোলাম দ্রুত পায়ে পুলিশের গাড়ির দিকে এগিয়ে যায় । পুলিশ কনসট্যাবল গোলাম ভাইকে দেখে হা হয়ে গেছেন । গোলাম ভাইয়ের দিকে করমর্দনের হাত বাড়িয়ে দিলেন । গোলাম ভাই তা উপেক্ষা করে পুলিশকে জড়িয়ে ধরলেন । পুলিশের নাম ধরে বলতে লাগলেন , বড় বাচা বাইচে গেছি ভাই ! আমি লাশ হয়ে যেতাম ভাই ! আল¬ায় আমারে বাঁচাইছে ।

পুলিশ গোলাম ভাইকে স্বান্তনা দিয়ে বসতে বলল । পুলিশ সব কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই গোলাম ভাই আলতার দিকে আঙ্গুল তুলে তাকিয়ে থাকে । গোলামের সাগরেতও আলতার দিকে তাকিয়ে থেকে মেকি কম্পনে কাপতে থাকে। আলতার বুক আতকে উঠল । কি হচ্ছে কোন কিছুই বুঝে উঠতে পাড়ল না সে । খুন কি কেউ হয়ই নি ? তাহলে রক্ত মাখা ছোড়া, গোঙানির আওয়াজ , লাল চোখা লোকটা  সবই কি মিথ্যে । এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আলতার চারপাশে  ছায়া আরও ঘন হয়ে বৃত্তাকার আঁধার সংকুচিত হয়ে আসতে লাগল । 

ক চোরের পো চোর, তুই কারে খুন করছস ? লাশ কোই ? তোরে এইবার শেষ কোইরে ফেলাবো । 

নানান জনের নানান কথা আর মাইরের শব্দে অনেক ক্ষণ আলতার চিৎকার শোনা গেল । আর মাইরেন না । এদের মধ্যে আলতা দুই একজনকে চেনে । তাদের নাম ধরে আলতা বলতে লাগল । মাজেদ ভাই, ও মকবুল ভাই, আপনেরা আমারে পুলিশে দেন । আমারে আর মাইরেন না । 

দূর থেকে দুই একজন মানুষ ছুটে আসছে । বড় বড় দম নিতে নিতে তারা এসে বলল, লাশ পাইছি । উত্তরের খালে একখান লাশ ভাইসা উঠছে । পেটে বুকে ছড়ির দেড় ইঞ্চির ও বেশী ক্ষত।  দাড়িতে সারা মুখ ঢেকে আছে। তবুও কারই তাকে চিনতে কষ্ট হয় নাই । চেয়ারম্যান চাচারেই মারছে শালা । বুড়া মানুষটারে পাষাণের মত কোপাইছে । 

এই কথা শোনার পর সমস্ত মানুষ তীব্র ক্রোধে ঝাঁপিয়ে পড়ল আবারও। এবার আর আলতার কোন শব্দ শোনা যাচ্ছে না । মাফ চাইবার, করুনা পাওয়ার মত আর কোন অবস্থা নেই তার । পুলিশ বাসি ফুকতে ফুকতে এগিয়ে আসল । আর মাইরেন না । হইছে , ছাড়েন । ওর শাস্তি ও পাইব । কয়েক জন পুলিশ কোন মতে জায়গাটা ফাঁকা করে । পুলিশ আলতার হাতে হাতকরা পড়িয়ে টানতে লাগল । আলতার শরিরে বল নেই । চোখের মৃদু  দ্যুতিতে দূর গ্রহ নক্ষত্রের ঘোলাটে আলো পুঞ্জীভূত হতে লাগল । আলতা সেই লাল চোখা লোকটিকে দেখতে পেল । লোকটি আলতাকে মারতে মারতে হাঁপিয়ে গেছে। গা থেকে ঘাম ঝড়ছে । লোকটি গোলামের কানে কানে কি যেন বলছে । মাথা ঝুঁকে পরে আছে আলতা। ছোপ ছোপ রক্তে পথের ধুলো পিঙ্গল বর্ণের হয়ে গেছে । আলতা আবার একটু চোখ তুলে তাকাল । গোলাম ভাই আলতার দিকে চেয়ে আছে । তার মুখে, চোখে অদৃশ্য বিভৎস্যতার ভয়ার্ত হাসি  ।   


সিরাজউদ্দৌলা

সিরাজউদ্দৌলা



সিরাজউদ্দৌলা
জাকি হোসেন কামাল

মুজিব বাইয়া যাওরে
নির্যাতিত দেশের মাঝে জনগনের নাওরে
মুজিব বাইয়া যাওরে।
উর্মি গাইছে নিবিষ্ট মনে। মেয়ের কন্ঠটা চমৎকার। মেয়ের গান শুনে কাছে এসে বসলো মিতা। মায়ের মতই হয়েছে উর্মি। চঞ্চল, একরোখা। ক ‘দিন ধরেই উর্মি অস্থির। তাদের স্কুলের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু আসবেন। কিভাবে তাঁকে বরণ করা হবে তার প্রস্তুতি চলছে স্কুলে। এই একটুকু মেয়েকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর গলায় ফুলের মালা দেয়া হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উর্মি গাইবে এই গান। এইটুকু মেয়ের কন্ঠে এই গান এই সুর। নিশ্চিত সবাই তন্ময় হয়ে শুনবেন। বঙ্গবন্ধুও নিশ্চয়ই খুশি হবেন। ভাবতে থাকে মিতা।

ভাবতে ভাবতে মিতা চলে যায় আরো ন ‘বছর আগের দিনগুলোতে। মিতা তখন ছবিঘরের সদস্য। পাকিস্তান কালচারাল একাডেমী ছেড়ে হাসনা আপা, টিপু ভাই, ফজল-এ- খুদা ভাই ও কামাল ভাইদের নেতৃত্বে গড়ে উঠে ছবিঘর। ছবিঘরের পরিচালনায় দূর্বার চলছে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। এর মধ্যে হয়ে গেল একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সষ্টিটিউশান মিলনায়তেেন। অনুষ্ঠানটি সকল দর্শক শ্রোতার ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।পত্র পত্রিকায় এ নিয়ে ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে কামাল ভাইয়ের নামও ছাপা হয়। তা দেখে কামাল ভাইয়ের বাবা অর্থাৎ মুজিব ভাই ছবিঘরের সদস্যদের দেখতে চান। তখন সবার মুখে মুখে মুজিব ভাই, আমাদের মুজিব ভাই। কামাল ভাইয়ের কাছে দেখা করার কথা শুনে সকলের মধ্যেই অস্থিরতা শুরু হয়। মিতারতো আর তর সইছেনা। কখন দেখা হবে মুজিব ভাইয়ের সাথে। তার দু ‘তিন দিনের মধ্যেই দেখা হয়েছিল মুজিব ভাইয়ের সাথে।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সেই বাসাতে, বসার ঘরে হৈ চৈ করে ঢুকতেই মুজিব ভাই উঠে দাঁড়িয়ে তাদের জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, আয় আয় তোরা সব এসে গেছিস?  তখন তিনি তাজউদ্দীন সাহেবের সাথে কথা বলছিলেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তুমি যাও, আমি এখন ছবি সংঘের বন্ধুদের সাথে কথা বলবো। কামাল, তোর মাকে বল, নাস্তা দিতে। আগে খাওয়া দাওয়া, তারপরে কথা। মুজিব ভাইয়ের উষ্ণ অভিনন্দনে সকলেই অভিভুত।

ফজল ভাই বললেন আমরা আপনাকে দেখতে এসেছি।
আরে দেখবি দেখবি, যখন তোদের জন্য কিছু করতে পারবো। এখনো কিছুই করতে পারিনি। কেবল ছয় দফা দিছি। দেখি কী হয়। মুজিব ভাইয়ের ঝটপট জবাব।

সেদিন কত কথা হয় মুজিব ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি সকলকে পেয়ে খুবই খুশি। মানুষকে এভাবে আপন করে নিতে পারে কেউ, কাছে থেকে না দেখলে বোঝার কোন উপায়ই নেই। সবাই যেন তার কতদিনের চেনা।


সেদিন একথা সেকথার পর মুজিব ভাই বললেন, তোরা নাচ করলি গান করলি, কিন্তু নাটক করলি না কেন? একটা অন্তত নাটক করা উচিৎ ছিল তোদের। নাটক করলে কথা বলার সাহস হয়। কথা প্রসঙ্গে মুজিব ভাই জানালেন, তিনি যখন ক্লাস সিক্সে পড়েন, সেসময় একবার ইন্সপেক্টরের তাঁদের স্কুল ভিজিটের কথা হয়। এ উপলক্ষে স্কুলে একটি অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়। ঐ অনুষ্ঠানে সিরাজউদ্দৌলা নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা কে হবে? শেষ পর্যন্ত মাষ্টার মশাইরা কয়েকজনকে পরীক্ষা করে তাঁকে দিয়েই সিরাজউদ্দৌলা চরিত্রে অভিনয় করানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইন্সপেক্টর আসেনি। আর নাটকটিও মঞ্চস্থ হয়নি। মুজিব ভাই দুঃখ করে বললেন, আর আমারও সিরাজউদ্দৌলা হওয়া হলোনা। একথা শুনেই মিতা বলে ওঠে, মুজিব ভাই, তবুও আপনিই আমাদের সিরাজউদ্দৌলা। কথা শুনে মুজিব ভাই যেন কিছুটা থতমত খেলেন। পরক্ষণেই হো হো করে হাসতে হাসতে বললেন, তোরা দোয়া কর, সিরাজউদ্দৌলা নয়, আমি যেন তোদের মুজিব ভাই হয়েই থাকতে পারি। আমি সবার মুজিব ভাইই থাকতে চাই, বাংলার দুঃখি মানুষের সুখ দুঃখের সঙ্গী হতে চাই।

সেই মুজিব ভাই এখন দেশের প্রেসিডেন্ট। সেদিনের সেই ঘটনার পর কতদিন চলে গেছে। মুজিব ভাইয়ের সাথে আর দেখা নেই। মিতারও ঘর সংসার হলো। মুজিব ভাইও ব্যাস্ত হয়ে গেলেন রাজনীতিতে। দেশ স্বাধীন হলো। মিতাও ব্যাস্ত থাকলো নিজেকে নিয়ে। এই ক ‘দিন  মুজিব ভাইয়ের কথা খুব মনে পড়ছে মিতার। মুজিব ভাই, সকলের মুজিব ভাই, বাংলার সিরাজউদ্দৌলা।

মিতার আজ খুব করে মনে পড়ছে মুজিব ভাইয়ের কথা। খুব শীঘ্রই মুজিব ভাই উর্মিদের স্কুলে আসবেন। মিতা সিদ্ধান্ত নেয়, স্কুলের অনুষ্ঠানে সে নিজেও থাকবে। ঠিক সোজা গিয়ে দাঁড়াবে মুজিব ভাইয়ের সামনে, তার সিরাজউদ্দৌলার সামনে। নিশ্চয়ই মুজিব ভাই তাকে দেখেই চিনতে পারবেন। মিতা জেনেছে, মুজিব ভাইয়ের স্মরণশক্তি অনেক প্রখর। আচ্ছা, মুজিব ভাইয়ের সামনে যাওয়া যাবে তো? এখনতো মুজিব ভাই দেশের প্রেসিডেন্ট। প্রটোকলের লোকজন তাকে কাছে যেতে দেবে তো? মিতা ভাবছে, নিশ্চয়ই দেবে। মিতা জেনেছে যে, মুজিব ভাই প্রটোকল মানেন না। সবার সাথে কথা বলেন তিনি। ভাবতে ভাবতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে মিতা। হঠাৎ গুলির শব্দে না কি লোকজনের চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে যায় মিতার। মিতাকে বলছে নবাব, তুমি চলে যাও মিতা। ক্লাইভের সৈন্যরা এগিয়ে আসছে। বিপদ এখন চারিদিকে। হুগলী, কাটোয়ার দূর্গ, অগ্রদীপ ও পলাশীতে আমাদের সৈন্যরা ইংরেজ সৈন্যদের পথরোধ করেনি। সেনাপতিরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মিতা দেখছে হাজার হাজার সৈন্য ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার হাতে এগিয়ে আসছে। এখানে ওখানে গোলার আঘাতে চিহ্নভিন্ন হচ্ছে চারিদিক। মীরজাফর, ইয়ার লতিফ ও রায় দূর্লভ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। ইংরেজ সৈন্যদের প্রতিরোধ না করেই দাঁড়িয়ে আছে তাদের অধীনস্থ সৈন্যরা। ইংরেজ সৈন্যরা আক্রমণ করছেন নবাবের দূর্গে, রাজধানীতে। একটি গোলা অগ্নিপিন্ডের মতো ধেয়ে আসছে মিতার দিকে। মিতা ওঠো- মামুনের চিৎকারে ঘুম ভাঙে মিতার। বুকটা ধড়পড় করছে মিতার।
মিতা ওঠো, বিপদ, দুঃসংবাদ ..। বলে যায় মামুন।
কী দুঃসংবাদ, বলো। স্বপ্নের রেশ কাটিয়ে প্রশ্ন করে মিতা।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে, রেডিওতে বলে যাচ্ছে এক মেজর।
কী বলো তুমি? চিৎকার করে ওঠে মিতা। তারপর চুপ হয়ে যায় মিতা। কোন কথা নেই। শুধু তার দু ‘চোখ বেয়ে নামে শ্রাবনের ধারা। মনে মনে নিজেকে দোষারোপ করে মিতা। কেন মুজিব ভাইয়ের নাম দিলাম সিরাজউদ্দৌলা। মিতা নিজেকে খুনি ভাবে, ভাবে অপরাধী।