জল



আজ বৃহস্পতিবার। ছুটির দিন। মিরাজ বাড়ি ফিরেছে, একদিনের ছুটি নিয়ে। শুক্রবারে সন্ধ্যার আগেই তাকে মাদ্রাসায় পৌঁছতে হবে। নয়লে একশত টাকার জরিমানা দিতে হবে তাকে। মিরাজের সে জরিমানা দেওয়ার ইচ্ছে নেই। কারণ, সে ভালো করেই জানে, তার বাবা কত কষ্ট করে টাকা রোজগার করে!

মিরাজ শহরের মাদ্রাসায় পড়ে। শহরের মাদ্রাসাগুলোতে সাধারণত লেখাপড়ার মান উন্নত হয়। তাতে বেশ কড়াকড়া নিয়ম-কানুনও থাকে। হয়তো এ ছোটখাটো নিয়মনীতিগুলোই লেখাপড়ার মান উন্নত করার প্রধান মাধ্যম।

মিরাজ প্রায় তিনমাস পর বাড়ি ফিরেছে। অথচ ওর বাড়ি মাদ্রাসা থেকে বেশি দূরে নয়। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের দূরত্ব। তবুও লেখাপড়ার চাপে তেমন বেশি বাড়ি আসা হয় না ওর। মিরাজ বাড়ি আসবে শুনে, তার মা আজ ঘরের পোষা মুরগিটা রান্না করে রেখেছে। সাথে বাজার থেকে ইলিশ মাছ আনিয়েছে। ভাজি করবে বলে। ডাল ভাত তো আছেই।

রাতে যখন মিরাজের মা ছেলের সামনে খাবার পরিবেশন করে, তখন মিরাজ একবার লুকোচুরির মতো মায়ের মুখ দেখে নেয়। যাতে তার 'মা' টের না পায়, তাই মায়ের চোখ মিরাজের চোখে পড়ার আগেই দৃষ্টি আবার ফিরিয়ে নেয়। 
মিরাজের এখন বুঝার বয়স হয়েছে, যে মা তার কাছে সব সময় সংসারের অক্ষমতাগুলো লুকিয়ে লুকিয়ে রাখে। লেখাপড়ার ক্ষতি হবে ভেবে, কখনো ওসব বলে না, বা বলতেও চায় না।

মিরাজ মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করে, শুধু ও বাড়িতে এলেই, ঘরের সবার মুখে দু চারটা ভালো খাবার জোটে। গোশত রান্না হয়। বড় বড় মাছ ভাজি হয়। সবাই ভালো ভালো খাবার খায়।

মিরাজ কোনো কথা বলে না। এখন চুপচাপ খেয়ে নেওয়াই ভালো। তা না হলে  মা গভীর রাতে পাশের ঘরে একাএকা ফুঁপিয়ে কাঁদবে। কেনো কাঁদবে? সে জানে না। কাঁদার কারণও সে আন্দাজ করতে পারবে না। এরকম ঘটনা একবার না, অনেক বারই ঘটেছে! আর বরাবরই এ কারণ উদঘাটনে সে ব্যর্থ হয়েছে। মিরাজ খোদার কাছে ওয়াদা করেছে, আর কখনো এসব আজেবাজে কথা বলে মাকে কাঁদাবে না। মায়ের মনে কষ্ট দিবে না। সে চায় না, মা কাঁদুক। মাকে কাঁদতে দেখলে ও'রো যে ভীষণ কান্না পায়।

সংসারের কোনো কথা জানতে চাইলেই  মা কেঁদে ওঠে। মায়ের চোখেমুখে অশ্রু ছলছল করে। তার অলক্ষিতে দু ফোঁটা চোখের অশ্রু ফেলে সবার অলক্ষ্যেই মুছে ফেলার চেষ্টা করে। কারণ, মা চায় না, তার এ অশ্রু বিধাতা ছাড়া আর কেউ দেখুখ।

ভাত পাতে থাকতেই মা একসময় নিরবতা ভাঙলেন।
মাদ্দাসার বোডিঙের অবস্তা ক্যামন'রে?
খাওয়ন-টাওয়ন বালা দ্যায় তো? দিনদিন এমন রোগা হয়ে যাইতাছস ক্যান?

চট করে একটা জবাব দিয়ে দিলেই হতো। কিন্তু বারো বছরের মিরাজের বড় অহঙ্কার। এ বয়সেই পৃথিবীর বাস্তবতা ওকে ''পুরুষ" বানিয়ে তুলেছে। মায়ের প্রশ্নের সাথে সাথেই ওর সামনে বোর্ডিংয়ের খাবারের চিত্রটা ভেসে ওঠে। 

আজ সকালে ও শুধু ডাল দিয়ে কোনোরকমে দু-মুঠো ভাত নাকে-মুখে দিয়েছে। বিকালে খেয়েছে, আলু ভর্তা দিয়ে। ডালের অবস্থা যা, একেবারে স্বচ্ছ পানি। ডাল আর পানির মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করা কখনো সম্ভব না। এখন মিথ্যা বলা ছাড়া কোনো উপায় নেই মিরাজের। নয়লে মা অনেক কষ্ট পাবে। মিরাজ মাকে কষ্ট দিতে চাই না, আর কখনোও না।

মিরাজ বললো, বোর্ডিংয়ের খাবার খুব ভালো। কী দারুণ স্বাদ! এক্কেবারে তোমার হাতের রান্নার মতো। ডালের মাঝেও তোমার হাতের রান্নার স্বাদ পাওয়া যায় মা। 

মা খুব খুশি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে মিরাজের। আরো দুটো ভাত পাতে দিতে চাইছিলেন তিনি। মিরাজ আপত্তি জানিয়ে বলে : 
পেয়েছ কি তুমি, আর কত খাব?

খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে, মিরাজ বাইরে এসে চোখ ফেরায়। আম গাছে সবে বোল ধরেছে। পেয়ারা গাছে কয়েকটা পেয়ারা বেশ বড়বড় হয়ে গেছে। সুপারি গাছগুলোতে কয়েক ছড়ি পাকা সুপারি। নারিকেল গাছে অনেকগুলো নারিকেল শুকনো হয়ে আছে। কলা গাছের কলাগুলো হলুদ-পাকা রঙ ধরেছে।

মা ডেকে বললেন, "এ্যাই মিরাজ, একটা পেরা নিয়ে আয় তো, খাওনের হর ফল-টল খাওয়া অনেক বালা।''

মিরাজের মন তখন অন্য কোথাও! মিরাজ ফলের কথা বাদ দিয়ে বাবার কথা বলে, বাবার খবর কি মা? 
উনার হাল-হাকিকত কেমন যাচ্ছে, দিনকাল ভালো যাচ্ছে তো?

মা বললেন, দিনকাল তো ত্যামন বেশি বালা যাইতাছে না'রে বাবা! সব আগের মত্তোই আচে! আগে য্যামন আছিলো, ঠিক ত্যামনই আছে সব। এতটুকু বলেই মা থামে।
মিরাজ বুঝতে পারে, মা, এ ব্যাপারে আর কোনো কথা বলতে চায় না। যা বলেছে এতটুকুই নিয়ে মিরাজকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

মিরাজ তখন কোনো কথা না বলে বাইরে বেরিয়ে আসে। বাড়ির সামনে ফুলেশ্বরী নদী চোখে ভাসে। আকাশে এক টুকরো মেঘ জমে আছে। নানা রঙের পাখির মেলা বসেছে দূরের এক শূন্যস্থানে। আম গাছের ডালে বসে হলুদ রঙের একটি পাখি খুব সুন্দর শিষ বাজাচ্ছে। যেন সে শোকগাথা গায়ছে। মিরাজের পাখির সুরটা খুব ভালো লাগে। 

আস্তে আস্তে মিরাজ বাড়ির আঙ্গিনা পেরিয়ে মেঠোপথে পা দেয়। মনে মনে ভাবে, হোক অভাব! তবুও নিজের বাড়ি অনেক ভালো! কারণ, এ বাড়িতে মা আছে, বাবা আছে, ভাইবোন আছে, বন্ধু-বান্ধব আছে, আত্মীয় স্বজন আছে, সবাই আছে। কিন্তু শহরে তাঁর প্রিয় বলতে কেউ নেই। কেউ-ই নেই।

বড় রাস্তায় পা দিতেই মায়ের গলা মিরাজকে জড়িয়ে ধরে।
:এ্যাই মিরাজ, এ্যাইমাত্র আইলি। এহন আবার কোনহানো যাইতাছস?

মিরাজ মায়ের কথা শুনে সামনে পা না বাড়িয়ে আবার বাড়ি ফিরে আসে। এসে, ঘরের আঙ্গিনায় বসে পড়ে। সামনের লেবু গাছটার কয়েকটি হলুদ ঝরা পাতা বাতাসে নিরুদ্দেশ হয়। মিরাজ চেয়ে চেয়ে সে নিরুদ্দেশ হওয়া পাতাগুলো দেখে। লেবু গাছটাকে দেখে।
এ গাছটাকে দেখলে মিরাজের ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে। শৈশবস্মৃতি। নিজ হাতে সে এ গাছটা মাটিতে রোপণ করেছিল। প্রায় বছর তিনেক আগে। যখন গাছটা রোপণ করছিল, তখন কেউ-ই ভাবেনি, এ ছোট্ট গাছটায় পাতা ধরবে। ডাল গজাবে। লেবু হবে। কারণ, এটা চারাগাছ ছিলো না। ছিলো শুধুমাত্র একটি ডাল। সে ডালটিই আজ লেবুগাছে পরিণত হয়েছে। অনেকগুলো লেবুও ধরেছে গাছটিতে। মিরাজের  এ কীর্তি যেই শুনে সেই মিরাজের খুব প্রশংসা করে। আর বলে, তোর হাতে আল্লাহ অনেক বরকত দিছেরে মিরাজ! তুই পারবি, সব পারবি!

মাদ্দাসায় লেহাপড়া ক্যামন হয়'রে?
ছোট্ট  করে প্রশ্ন করে মিরাজের মা।
মিরাজও  ছোট্ট করেই উত্তর দেয়, ভালো।
নিজের অজান্তেই মিরাজ মায়ের সামনে আগের প্রশ্নটিই জুড়ে দেয়, আব্বুর দিনকাল কেমন কাটছে মা? আব্বু কি এখনো ঠিকমতো বাসায় ফিরে না?

মায়ের চোখ চিকচিক করে। মুখে কথা ফুটে না। মনে হল, অনেক কষ্টে মা মুখ খুললেন।
"তোর বাহের দিনকাল্যো বেশি বালা যাইতাছে না'রে খোহা! আয়-রোজগারও ত্যামন বালা দেখতাছি না! জানিস তো, আজকাল্যো ব্যবসাপাত্তি করলে কত্ত বেগ পোহাইতে হয়! কত্ত রহমের দালাল-বাটফারদের হান্দে হড়তে হয়! তোর বাহের বেলায়ও এর ব্যত্যয় ঘটতাছেনা'রে বাবা!
এ্যাইতো কয়েকদিন আগেও এক ভণ্ড লোহের ধান্দার মইধ্যা হড়ছে! অনেক ট্যাহা মাইর দিছে। ট্যাহা দিবো না। চাইলে আরো বড় বড় হুমকি দে, "জানে মেরে ফেলব এক্কেবারে, বেশি কথা কইস না, কি বাল করবি করগা!'' এ ভয়ে তোর বাবাও আর ট্যাহা চায় না। যা গেছে গেছেই, এ্যাহন আর জানডা দিলে কি হইবো! ট্যাহা তো আর ফিইরে আইতো না!

কথাগুলো বলতে বলতে মায়ের গলা থিতিয়ে ওঠে, কাঠ হয়ে আসে, শুকিয়ে যায়। এক কথা আরেক কথার সাথে আটকে যেতে শুরু করে। মা শিশুর মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। মুখ থেকে আর কথা বেরোয় না!

মিরাজ ব্যাপারটা আঁচ করতে পারে। সে আর কথা বাড়াতে চায় না। জন্মের পর থেকেই সে ওর বাবার অবস্থা স্বচক্ষে দেখে এসেছে। নতুন করে আর কি-ই-বা জানবে, কি-ই-বা দেখবে!

গ্রামের খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষ  সন্ধ্যার পর পরই খেয়ে-দেয়ে শুয়ে পড়ে। নিথর দেহের মতো ঘুমিয়ে যায়। গ্রামের বেশির ভাগ লোক রাতের প্রথম ভাগেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু ওর বাবা বাড়ি ফিরে  রাত প্রায় বারোটা একটার পর। কখনো সারারাত বাজারের টং দোকানগুলোতে ঘুমে নির্ঘুমে কাটিয়ে দেয়। পথচারীদের বিশ্রামের জন্য নির্মিত বেঞ্চে বসে, মাথা ঠেকিয়ে সারারাত পার করে দিতেও, তার কোনো মাথাব্যথা নেই। ঘরে আসলেই তার যত সমস্যা, যত অশান্তি। ঘরের কারো চেহারা দেখলেই তাঁর চোখে রাগ ঝিলিক দিয়ে ওঠে। কাঁধ ফুলে ওঠে, গদগদ করে। যত রাগ, অভিমান সব যেন ঘরের লোকদের সাথেই। আর কারো সাথে নয়। 

টাকা! হ্যাঁ এ টাকার অভাবেই মানুষটা যেন ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে। বিবেক বুদ্ধি হারিয়ে, এখন রাস্তার ভিখারি হতে বসেছে।

ছেলেবেলা থেকেই মিরাজ তার পিতার এ অবস্থা  দেখে এসেছে। কিন্তু আগে তেমন একটা সে এসব নিয়ে ভাবেনি। এখন মিরাজের বুঝার বয়স হয়েছে। সে এখন ঠিকই বুঝতে পারে, কি কারণে তার পিতা গভীর রাতেও বাড়ি ফিরে না! এর পিছনের গল্পটা কি? এখন সে অনায়াসেই এসবের ডিটেলে ঢুকতে পারে। এবং এর নথিপত্র খুব সহজেই বের করে আনতে পারে।

মিরাজ যখন ক্লাস সিক্সে পড়ে, তখন ওর পিতা কোমরে মারাত্মক আঘাত পায়। খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে দিন কাটে ওদের। দু'বছর যাবৎ তার পিতা অসুস্থ ছিল। কোনো কাম-কাজ করতে পারেনি। বিছানায় শুয়ে শুয়ে দুমড়ে-মুছড়ে কাতরিয়েছে। ক্ষুধার্ত পাখির মতো ছটফট করেছে। মৃত্যুরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মতো সারা দিন-রাত বিছানায় শুয়ে শুয়ে, শুধু আল্লাহ আল্লাহ নাম জপেছে। যাতে পরিবারের এ নরক হালতে তাঁর মৃত্যু না হয়। তাঁর মৃত্যু হবে, ছেলেটা যখন বড় হবে। সংসারের সব দায়িত্ব কাঁধে নিবে। তখন ছেলের হাতে সংসারের সব মামলা-মোকদ্দমা তুলে দিয়ে পরম শান্তিতে স্বর্গবাসে চলে যাবে। তখন তার মৃত্যু হলে বিন্দুমাত্র আফসোস থাকবে না। কিন্তু এখন! আফসোসের সীমা থাকবে না!

মিরাজ তার পিতার দুঃখ দুরাবস্থার দিনগুলো দু-চোখে প্রত্যক্ষ করেছে। তার পিতাও মায়ের মতোন সংসারের অক্ষমতাগুলো সব সময় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কখনো বুকের পাঁজরের নিচে লুকিয়ে থাকা ব্যথাগুলো বুঝতে দেয় না। উল্টো আরো ছেলেকে বলে,
"বাচা, আমার জন্য দুঃখ করিস না। আমাদের দুঃখে কেঁদে মরিস না। আমরা সুখেই আছি। তুই মন দিয়ে লেখাপড়া কর। সুন্দর, সাফল্যমণ্ডিত জীবন গড়।''

এখন জোছনার সময়। রাতের খাবারের পর মা দু-মুঠো ভাত মুখে দিয়ে শুয়ে পড়েছে। একা বাড়ি কেমন খাঁ খাঁ করছে। সারা আকাশ জুড়ে রূপালি আলোর মেলা বসেছে। ছোটবেলায় ঠিক এ সময়ে সে মা বাবার কাছে ভূত পেত্নীর গল্প শুনতো। এখনো তার বয়সী ছেলেমেয়েরা দাদা-দাদুর কাছে গল্প শুনার বায়না ধরে। কিন্তু মিরাজের আর এসব অলীক গালগল্প শুনতে এখন আর ভালো লাগে না। তা হলে সে কি বড় হয়ে গেছে ? বারো বছরের মিরাজ মনের অজান্তেই নিজেকে নিজে এ প্রশ্ন করে বসে!

তারও মন চাই, পাখির মতো, মুক্ত বিহঙ্গে ডানা মেলে আকাশে উড়তে। সমবয়সী বন্ধুদের সাথে হাসি-খুশিতে আড্ডা দিতে। রাতের আঁধারে কেঁদে কেঁদে বালিশ না ভিজিয়ে সারারাত অজ্ঞানের মতো নাক ডেকে ঘুমোতে। কিন্তু সে তা করতে পারে না। কারণ এ বয়সেই "বাস্তবতা'' তাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে। সমবয়সী অন্য কেউ এর ধারে কাছেও যেতে পারেনি। প্রচণ্ড দুঃখ-কষ্ট ওর জীবনকে অন্য দশটি ছেলে থেকে আলাদা করেই ছেড়েছে।

মিরাজ লক্ষ্য করে, ও বাড়িতে এলেই টানাপোড়েনের একটা সংসার মুহূর্তেই আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ভালো ভালো খাবার রান্না হয়। ইলিশ মাছ ভাজি হয়। কিন্তু এ আনন্দ ওর মনে ধরে না। এ আনন্দ ওর চোখ-মুখ আঁধার করে দেয়। ওর বুকে জোয়ার তোলে। সে জোয়ারে ওর হৃদয় ভেঙে খানখান হয়ে যায়।

সন্ধ্যায় দু-মুঠো ভাত খেয়ে পুকুর ঘাটে চলে যায় মিরাজ। মিরাজের ছায়া জোছনার জলে ধরা পড়ে। বাতাসে জল কাঁপে। মিরাজের ছায়া কাঁদে। ওর দু চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ে। সকল বেদনা বুকে চেপে নিজেকে নিজেই সান্ত্বনা দেয়, দুঃখ করিস না মিরাজ। দেখিস, একদিন ঠিকই তুই অনেক বড় হবি। অনেক টাকা কামাবি। মা বাবার দুঃখ ঘুচাবি। ওদের মুখে হাসি ফুটাবি।

মিরাজ আর কিছুই ভাবতে পারছে না। পুকুরের স্থির জলের মতোই ওর দু চোখ পুকুর হয়। এত জল সেখানে। শুধু জল আর জল।

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট