দূরগ্রামে এক কবিরাজের সন্ধান পাওয়া গেছে। ভাবীর ছেলেটা সেখানে সকালে
গিয়েছিল। ছেলেটার সব সমস্যা বইয়ের মুখস্তপড়ার মতো গড়গড় করে সে বলে দিয়েছে। মানুষ তার
কাছে অমাবস্যার মুখ নিয়ে যায় আর ফিরে আসে চাঁদমুখ নিয়ে।
দীর্ঘদিন রোগে ভুগতে কারই বা মন চায়? এই ডাক্তার, সেই ডাক্তার
দেখিয়ে জীবনটা তার তিক্ত হয়ে গেছে। কিছুদিন ভালো যায় আবার হঠাৎ করেই রোগটা তারে ধরে
বসে। তার কাছে এতো ভোগাভোগি আর ভালো লাগে না। মানুষ নানা ঘাট ঘেটে যখন সমাধান না পায়,
তখন যে যা বলে তাতে বিশ্বাস করে বসে। বাঁচতে সবাই চায়। মানুষ বাঁচার জন্য বিশ্বাস পাল্টাতেও
দ্বিধা করে না। আরোগ্য লাভের আশা মানুষের আজন্মকাল।
আরোগ্য লাভের কিঞ্চিত আশা বুকে বেঁধে বিকালে রওয়ানা দিয়ে প্রদীপ
বাড়িতে গিয়ে পৌঁছায় রাতে। খুব ভোরে উঠে ভাতিজাসহ প্রদীপ মোটরবাইকে চড়ে বসে। কবিরাজ
আজ প্রদীপের ভাতিজার চিকিৎসা দেবেন। খুব সকালে গিয়ে সেখানে হাজির হতে না পারলে সিরিয়ালে
পিছনে পড়তে হবে। তখন ফিরতে বিকাল হয়ে যেতে পারে।
একগ্লাস পানি পান করে যাত্রা। প্রথমে দেড় কিলোমিটারের মতো ইটের
জাম্পিংরোড অতিক্রম করে ভাঙাচোরা পিচের রাস্তা পার হয়ে হাই-রোড। হাই-রোডের স্বাস্থ্যফিগার
ভালো। চেহারা দেখলেই বোঝা যায় হার্বাল চিকিৎসার মতো স্বাস্থ্য পুনর্গঠন করা হয়েছে।
আমাদের দেশের রাস্তাঘাটের এই এক অবস্থা। হার্বাল চিকিৎসার টনিক মেডিসিনের মতো টনিক
সামগ্রী দিয়ে রাস্তার স্বাস্থ্য গঠন করা হয়। কিছুদিন পরে আবার রোগীদের ভগ্ন-স্বাস্থ্যের
মতো রাস্তা-ঘাটও ভগ্ন-স্বাস্থ্য ফিরে পায়। স্বাস্থ্যবান রাস্তার ওপর দিয়ে মোটরবাইক
শা-শা শব্দে গন্তব্যের দিকে ছুটে চললো। পাঁচ-ছয় কিলোমিটার যাওয়ার পরে আবারো এলাকার
পিচের ভাঙা রাস্তা। তারপরে আবারো দুই কিলোমিটার পরে ইটের জাম্পিংরোড। মনে হয় রাস্তার
ভেতরে স্প্রিং বসানো।
কবিরাজ বাড়ির সামনে গিয়ে যখন বাইক থামলো তখন ঘড়ির কাঁটা সকাল
ছয়টার ঘর ছুঁয়েছে। বাড়ির সামনে নতুন পাকা মসজিদ। পাশে পুকুর। অপর পাশে একটা দোকানও
আছে। বাড়ির সামনে একটা ছোট ঘর। এইসব এলাকায় ঘরটিকে ‘কাছারি ঘর’ বলে। এখানে বসেই কবিরাজ
রোগী দেখেন। রোগীরা এখনো কেউ আসেনি। বসার জন্য কয়েকটা প্লাস্টিকের চেয়ার রাখা আছে।
কাছারি ঘরের উত্তরপাশে ছোট একটা বারান্দায় মহিলাদের বসার ব্যবস্থা আছে। হুজুরের বসার
টেবিল বরাবর উত্তরপাশে একটা জানালা। সেই জানালা দিয়ে হুজুর আর রোগিনীদের সাক্ষাত হয়,
চিকিৎসা হয়। সেখানে দুইজন মহিলা ইতোমধ্যে এসে বসে রয়েছে।
