গল্পটি
শুনতে চেয়ো না
সোহেল নওরোজ
১
একে একে তিন কাপ চা শেষ করলেন হাফিজুল হক। এই কাজটা তিনি রোজ
করেন। প্রথমে পান করেন চিনি ছাড়া আদা চা। এটা গিলতে তার বেশ কষ্ট হয়। মুখের ভেতর বিশ্রী
একটা অনুভূতি হয়। তবে গলা পরিষ্কারসহ পেটের উপকারের জন্য এই চায়ের নাকি বিকল্প নেই!
আপ্তবাক্য মেনে নিয়ে দ্বিতীয় কাপের জন্য অপেক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পর আসে ঘন চিনি দেওয়া
লেয়ার চা। এই চা তৈরির ফর্মুলা আলাদা। পান করার চেয়ে চেয়ে দেখায় বেশি আনন্দ। লালচে
লিকারের নিচে ঘন সাদা চিনির স্তর। কেউ কারো সীমানা অতিক্রম করছে না। তিনি চিনির ওপরের
স্তরের লাল লেয়ারটুকুতে ধীরে ধীরে চুমুক দেন। চিনির অংশ ভুলেও মুখে দেন না। এত ঘন চিনি
তার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। ডায়াবেটিস না থাকলেও তিনি বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে
চলেন। দ্বিতীয় কাপ চা খাওয়ার পরপরই তৃতীয় এবং শেষ কাপ চা মুখে দেন। এই চা খাঁটি দুধের
তৈরি। ওপরে হালকা সর ভাসে। চিনি হতে হয় পরিমান মতো। জহুরা লিকার আর রং চা ভালো বানালেও
দুধ চা বানাতে পারে না। দুধ-চিনির পরিমাণে গ-গোল পাকিয়ে ফেলে। লিকারের ব্যাপারটাও ঠিকমতো
ধরতে পারে না। তাই দুধ চা-টা বাইরে থেকে ফ্লাস্কে করে আনাতে হয়। তালাত মিয়া দুধ চা
ভালো বানায়। দোকানের তালা খুলে রোজ প্রথম যে কাজটা করে তা হলো মফিজুল সাহেবের জন্য
চা বানানো। যে-সে চা না, সর ভাসা স্পেশাল দুধ চা।
