কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ২১৭

ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ২১৭

 ধানশালিক : তারুণ্যের শিল্প সরোবর ।। বর্ষ ৮ম ।। সংখ্যা ২১৭

শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৪, ১৯ পৌষ ১৪৩১, ০২ রজব ১৪৪৫





















পদাবলি

পদাবলি

 



যৈবতীনাভি

নীহার মোশারফ


আগামীতে কেমন হবে কবিতার ভাষা?

ফাগুন, আগুন, বর্ষা বাতাস, শরতের কাশ

ঢেকে দিবে ছাইচাপা কথা? থাকবে না পাখির গান?

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণীর অপেক্ষা খুব...


এখন আর আগের মতো খোলামেলা যাবে না চলা

নারীদের পরতে হবে বোরকা, শাড়ির সুতো ভেদ করে

দেখা গেলে যৈবতীনাভি, শূলে চড়বে কেউ কেউ; 

চোখের দৃষ্টি বেহায়া হলে পুরুষ বেওয়ারিশ হবে।

মুফতির ফতোয়ায় দ- ভয়ানক।


কার কথায় নারী ঘরের বের হয়? চাকরির নামে

অফিসে গেলে হাওয়া লাগে বুকে বারবার, ধুঁকে ধুঁকে মরে কত

কাপুরুষ হৃদয়। পালটে দাও কবিতা বিষয়। ছন্দ, মাত্র, লয়

বিদ্যালয়ে প্রতীকী সংসদ অধিবেশন বসলে দূর হবে অবক্ষয়


এসো নতুন করে গানের কবিতা লিখি। নতুন পঙ্ক্তিতে সাজাই দেশ

শরতের শুভ্র আকাশে গ্রাফিতিতে গ্রাফিতিতে ভাঙি নীরবতা

সময় এসেছে নতুনদের হাল ধরার, পেছনে ফেউ আছে জানি

তবুও পথ দেখাতে হবে ওদের। আমার মাথার ওপর ছায়া সুশীতল।



প্রাচীন হরিকেল জনপদ ধরে হেঁটে যাওয়া মানুষ 

রুদ্র সাহাদাৎ 


প্রাচীন হরিকেল জনপদ ধরে হেঁটে যাওয়া মানুষ 

কিসের ভয় দ্যাখাতে চাও 

বুঝি মুখ ও মুখোশের তফাৎ

বুঝি ঘৃণা আর ভালোবাসার খেলা 

বুঝি বৈশাখী হাওয়া- বৈশাখীঝড়- 

আমাকে কিসের বাণী শোনাতে চাও 

জিততে জিততে হেরে যাওয়া আমি আর আমার চোখ

অনেক দ্যাখেছি একজীবনে

প্রাচীন হরিকেল জনপদ ধরে হেঁটে যাওয়া মানুষ 

চেয়ে দ্যাখি উড়ে যাওয়া লালনীল রঙিন ফানুস...



ভীষণ দুঃসময়ের পদধ্বনি 

হিলারী হিটলার আভী 


সামনের শতাব্দীগুলো শতবর্ষী ভীষণ ক্রুসেডের

সামনের বছরগুলো ভীষণ খরা ও ঝরা’র

সামনের মাসগুলো ভীষণ কষ্টের ও নষ্টের

সামনের পক্ষগুলো ভীষণ অর্ধাহার ও অনাহারের

সামনের সপ্তাহগুলো জীবনক্ষয়ী বুলেট ও বোমা’র!


সামনের দিনগুলো ভীষণ দূর্দিনের

সামনে সময়গুলো ভীষণ দুঃসময়ের

সামনের ঘণ্টাগুলো ভীষণ শব্দময়ের

সামনের মিনিটগুলো ভীষণ নাভিশ্বাসের!


সামনের সেকেন্ডগুলো ষাট ভাগে বিভক্ত হবে

এক-একটি ভাগ এক-একটি ডিনামাইট হবে

অর্থাৎ বিশ্বে এক সেকেন্ডে ষাটটি করে স্থাপনা নিশ্চিহ্ন হবে!



সুদিন

হাফিজুর রহমান


তুমি এসো

আমার জন্যেই আসবে, 

আসতেই হবে একসময়- একদিন;

না-হলেও ভালোবেসে!

আশাহত, হতে দিও না আমাকে।


ছোট হতে দিও না

হতে দিও- না কখনও অপমান,

বাঁচতে দিও সম্মানটুকুই নিয়ে-

মানুষ হিসেবে ধরে রাখতে মর্যাদা;

উপভোগ করাতে এ জীবনটাকে।



মায়ের হাসি

সোহান মেহরান 


কেউ পারে দিতে? মায়ের হাসিতে থাকে যতটুকু সুখ!

ও হাসিতে তার সুখ সমাহার দেখলেই ভরে বুক।

রোজ ভোরে হাসে মেঘেদের পাশে সোনালী রবির আলো,

উঠি তাই গেয়ে সে হাসির চেয়ে মায়ের হাসিটা ভালো।


ও হাসিতে তাই মনটা ভরায় সুবাস ছড়ায় ভারি,

ভেসে ওঠে মনে ঘুম জাগরণে ভুলতে না কভু পারি।

ও হাসি রঙিন চির অমলিন থাকে হৃদয়ের পাতা,

মায়ের ও হাসি কত ভালোবাসি রূপোলী মলাটে গাঁথা।


যাই যত দূর ও হাসি মধুর কানে রিনিঝিনি বাজে,

পূর্ণ কোমল নেই কোনো ছল মায়ের হাসির মাঝে।

ঐ হাসি খাঁটি খুব পরিপাটি সেরার চেয়েও সেরা,

মায়ের হাসিতে এই পৃথিবীতে থাকি মমতায় ঘেরা।


মুগ্ধতা সারা হাসির ফোয়ারা অপলক দেখি আমি,

সোনা বা রূপার দাম নেই তার, মা’র হাসি যত দামি।

ও হাসি সরল নিবিড় তরল দুঃখ লুকিয়ে হাসে,

হাসি তার শোভা কীযে মনোলোভা হৃদয় গহীনে ভাসে।



বেদনাবলয়

আজিজ বিন নুর 


অমন গহীন বেদনাবলয় এঁকে দিয়েছো দুই চোখে

পৃথিবী- প্রবাসে আমি নোনাজল নোনামুখে

আবৃত্তি করি অমিয় মৃত্যুর সুধা

বিষাদের পিঠে চড়ে নিষেধের দ্বিধা নিয়ে

ভাসায়-ডোবায় আমায় করুণার বসুধা।


ধোঁয়াশার দিগন্তে টানিয়েছো নিষেধের নিয়ন

পথের ভীড়ে আমি হারিয়েছি পথ

সুখের ভীড়ে আমি সুখ

হারিয়েছি আমাকেই- বেদনার বাথানে

আমি এক চির হাঁড়িমুখ...


যুদ্ধের ভেতর আমায় আরেক যুদ্ধ ডাকে

বরণ করে নিতে পরাজয়-

দৈন্যতার প্রেয়শ খদ্দের আমি

ডেকে ডেকে দিয়েছে শূন্যতার প্রলয়

কষ্টের হিমালয় কাঁধে চেপে বলে

‘নুয়ে পড়ো, হেরে যাওয়ার হয়েছে সময়’


অমন গহীন বেদনাবলয় এঁকে দিয়েছো দুই চোখে

পৃথিবী- প্রবাসে আমি নোনাজল নোনামুখে

আবৃত্তি করি অমিয় মৃত্যুর সুধা

বিষাদের পিঠে চড়ে নিষেধের দ্বিধা নিয়ে

ভাসায়- ডোবায় আমায় করুণার বসুধা।



গভীর রাতের প্রেম

মিজান ফারাবী


শিশিরের টুপটাপ শব্দে নেমে আসা ভোর। এই রাত থেকে ভোর অব্দি কেবলই তোমার ভাবনা। হৃদয়ের সমস্ত আকুলতা নিয়ে প্রার্থনায় হাজির হই গভীর রাতের প্রেমে। এ যেন তোমাকে আরো কাছে পাবার, আরো কাছ থেকে দেখার অস্থিরতা বুক জুড়ে। জোছনার এই তারাসুদ্ধ রাতের আকাশ জানে আমার আকুলতা, আমার প্রেম ও আবেদন। আমি দরদ নিয়ে আওড়াতে থাকি- এই একটা রাতই তো তোমার হতে চেয়েছি। তুমি শান্তি পাও, আমায় একান্তে ভালোবাসো।



সন্তুষ্ট

মিনহাজ উদ্দিন শপথ 


আজ আমার কুকুরটার কী যে হলো। কিছুই বুঝি না। খায় না ঘুমায় না। ঘেউ ঘেউ করে মাতিয়ে তোলে না সারা ঘর। কেবল ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে- চোখে। সকাল-দুপুর-সন্ধে যে হয়ে এলো। এখন কী করি কোথায় যাই। রিতা এলো চুল ছড়িয়ে গন্ধ বিলিয়ে দেখালো নাচ হিজিবিজি- উলঙ্গ জোছার ঢেউ। মুগ্ধমুখ। ওফ! কুকুরটা এবার শান্ত হলো ঘুমাল সারারাত।


শব্দমালা : শোভন মণ্ডল

শব্দমালা  : শোভন মণ্ডল

 


শব্দমালা

শোভন মণ্ডল 


শূন্য এ বুকে... 


যত এগোই জীবনের দিকে

মৃত্যু ছায়া ফেলে পায়ের নিচে 


যতই আলোর দিকে মুখ করে থাকি 

অন্ধ করে দিতে চায় এই প্রিয় চোখ

আমাদের চলা আসলে হেঁটে যাওয়া হোঁচট খেতে খেতে 

বিছানো লাল-নীল মার্বেল পাথরে ঘষে নেওয়া এ শরীর

ঝলমল করে,  সারা জীবন ধরে


কোথাও কি আঁচল ভরে গেছে উপহারে? 

কোথাও কি মুঠোর মধ্যে ধরা আছে স্নেহ আর ভালবাসাখানি? 

এ প্রশ্ন করতেই হবে 


যতই এগিয়ে যাই মৃত্যুর দিকে 

জীবন আলিঙ্গন করে শূন্য এ বুকে 



শরীর 


ঘামের বিন্দুগুলো বুকের আনাচে লুকোয়

দেখেছি আদর-বেলায়

শুধু এক প্রেমের আখ্যানে আরও কিছু বাকি থাকে দেহ

মন্ত্রের মত নিটোল সন্দেহ

চোখের ঘেরাটোপে মেঘ নামে 

পুরনো জানালায় পর্দা ওড়ে হাওয়ায়

সে সব তো অছিলার মত মেলা থাকে সাজ


ব-দ্বীপে সাজিয়ে রাখা চর

আর ছোট ছোট লতা-গুল্ম-গাছ




উড়িয়ে দেওয়া যায় সব


সবই তো ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যায়


এই মাত্র পাখির পালক উড়তে উড়তে নেমে এল ঝিলে

জলে কোনও সত্যিকারের ছায়া নেই

সবটাই মায়া বলে মনে হয়


এক এক দিন শুধু ঘুমিয়ে থাকে মন

মনে হয় এভাবে কেটে গেলে বেলা 

আমাদের আর হেরে যাওয়ার গল্প থাকবে না 

ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবো কষ্টের পালক


শুধু মায়াগুলো উড়ে যাবে আকাশ গঙ্গায়...


ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ২১৬

ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ২১৬

 তারুণ্যের শিল্প সরোবর । ধানশালিক। বর্ষ ৮ম ।। সংখ্যা ২১৬

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২ পৌষ ১৪৩১, ২৫ জমাদিউল সানী ১৪৪৫ ।




















সৈয়দ শামসুল হকের রচিত কবিতা

সৈয়দ শামসুল হকের রচিত কবিতা

 


সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রামে। আট ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন সৈয়দ হক। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয় সৈয়দ শামসুল হক ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।



একেই বুঝি মানুষ বলে


নষ্ট জলে পা ধুয়েছো এখন উপায় কি?

আচ্ছাদিত বুকের বোঁটা চুমোয় কেটেছি।

কথার কোলে ইচ্ছেগুলো বাৎসায়নের রতি,

মানে এবং অন্য মানে দুটোই জেনেছি।

নষ্ট জলে ধুইয়ে দেবে কখন আমার গা,

তোমার দিকে হাঁটবে কখন আমার দুটো পা?

সেই দিকে মন পড়েই আছে, দিন তো হলো শেষ;

তোমার মধ্যে পবিত্রতার একটি মহাদেশ

এবং এক জলের ধারা দেখতে পেয়েছি-

একেই বুঝি মানুষ বলে, ভালোবেসেছি।



তুমিই শুধু তুমি


তোমার দেহে লতিয়ে ওঠা ঘন সবুজ শাড়ি।

কপালে ওই টকটকে লাল টিপ।

আমি কি আর তোমাকে ছেড়ে

কোথাও যেতে পারি?

তুমি আমার পতাকা, আমার কৃষির বদ্বীপ।


করতলের স্বপ্ন-আমন ধানের গন্ধ তুমি

তুমি আমার চিত্রকলার তুলি।

পদ্য লেখার ছন্দ তুমি−সকল শব্দভূমি।

সন্তানের মুখে প্রথম বুলি।


বুকে তোমার দুধের নদী সংখ্যা তেরো শত।

পাহাড় থেকে সমতলে যে নামি-


নতুন চরের মতো তোমার চিবুক জাগ্রত−

তুমি আমার, প্রেমে তোমার আমি।


এমন তুমি রেখেছ ঘিরে−এমন করে সব-

যেদিকে যাই-তুমিই শুধু-তুমি!

অন্ধকারেও নিঃশ্বাসে পাই তোমার অনুভব,

ভোরের প্রথম আলোতেও তো তুমি!


এপিটাফ


আমি কে তা নাইবা জানলে।

আমাকে মনে রাখবার দরকার কি আছে?

আমাকে মনে রাখবার?

বরং মনে রেখো নকল দাঁতের পাটি,

সন্ধ্যার চলচ্চিত্র আর জন্মহর জেলি।

আমি এসেছি, দেখেছি, কিন্তু জয় করতে পারিনি।

যে কোনো কাকতাড়–য়ার আন্দোলনে,

পথিক, বাংলায় যদি জন্ম তোমার,

আমার দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাবে।


পদাবলি

পদাবলি




ভিখারি 

নাসরিন জাহান মাধুরী 


ভেতরের অবদমিত প্রতিজ্ঞা 

শপথের বাক্য 

যাও যাও যাও, এই বেলা তুমি যাও

তারপর যেতে থাকি যত দূরে যাওয়া যায়


যত দূরেই যাই 

তোমার বৃত্তের পরিধি, ব্যাস, ব্যাসার্ধ 

কিছুই ডিঙাতে পারি না

সাত রঙা পাহাড় ডিঙাই

ময়ূরাক্ষী নদীতে ভাসি

সাত সমুদ্র তেরো নদী

অনন্ত নক্ষত্র বহুকাল আগে যার আলো

কৃষ্ণ গহ্বরে বদলে গেছে তার আলো ডিঙাই.. 


যাও যাও যাও, এই বেলা তুমি যাও

তারপরও যেতেই থাকি

ব্যথার রাগিণী বেজেই চলে

যাও যাও যাও এই বেলা তুমি যাও


যেতেই হবে! যেতে হবেই!

চোখে বিস্ময় মনে বিস্ময় নিয়ে

চলে যাই চলে যাই অজানায়

সব অগ্রাহ্য করে

আর কোন মোহ নেই

নেই মায়া পাখি 

নেই পিছু ডাক

কোন সীমা রেখা আর আটকাতে পারে না...



ভুলে যেয়ো আমাকে

ম্স্তুফা হাবীব


মানবিকা, আমাকে ভুলে যেয়ো। 

তুমি চেয়েছিলে স্বপ্নের গাছটিতে ফুল ফুটুক, 

সুবাস ছড়াক বসন্তের সুহাসিনী বাতাসে।


আড়িয়াল খাঁর উন্মত্ত ঢেউয়ে 

স্বপ্নগাছটির শেকড় থেকে মাটি সরে গেছে 

আজও ফেরারি আসামির মতো সেই দুর্ভাগা স্বপ্ন 

 অচেনা প্রান্তরে পালিয়ে বেড়ায়।


তোমার রূপনগর আর দেখা হল না আমার

তিল শোভিত পাতাবাহার গালে হল না চুমু খাওয়া

জংধরা আরশিতে চোখ রেখে শুধু স্মৃতির আবাদ। 


মানবিকা, চার দশকেরও অধিক সময়

বেয়ে যাচ্ছি কালের বৈঠা

আগুনমুখা নদীর উপাখ্যান লিখেও 

আজও ভিড়তে পারিনি তোমার ঘাটে।


মানবিকা, ভুলে যেয়ো আমাকে

হৃদয়ের বিলবোর্ডে কেনো লিখে রাখো মুস্তফা হাবীব !


অস্তিত্ব

মুহম্মদ মহসিন হাবিব 


একদিন তরতাজা কলমিলতা হয়ে

খাদকে রূপান্তরিত হবো

আর আমার স্বজাতিরা পোকা মাকড়ের কামড়ে জর্জরিত হবে 

ফিরেও তাকাবে না কেউ

জীবন খিদে মেটাতে আমাকেও

রান্নার রেসিপি হতে হবে কোনো এক পছন্দের থালিতে

কিম্বা পড়ন্ত বিকেলের আলোয় ধুলি মাখা দেহে শিউলি পচা হয়ে 

ঠাই মিলবে আস্তাকুড়ের লুকানো ঠিকানায়

ফুল মালার সমারোহ থাকবেনা;

থাকবেনা মাটি উৎসবের সমারোহ

শুধু থাকবে অন্ধকার আকাশে এক ফালি চাঁদের বিরাজমানতা।



কীর্তিনাশা নদীটি

নাঈমুর রহমান


কীর্তিনাশা নদীটি তারে আমি চিনি

চিনি আমি আগন্তুকের নাম।

চোখ জুড়ে তাঁর বনলতার কালিমা

কীর্তিনাশার ঢেউয়ে বহে কাজলরেখা।

সন্ধ্যা এলে আবার ফিরে শিরীষ গাছের বনে

হলুদ রঙের ডানা মেলে 

কীর্তিনাশার বিস্তীর্ণ বুক জুড়ে।

আমি চিনি তাই,

চিনি আমি আগন্তুকের এলোচুলের হিজল-কমল।

কীর্তিনাশা গাহে, বহে অপরাহ্ণের সমুষ্ণ বাতাস,

খুব কাছাকাছি কলমির ফুলের দলে

সে আগন্তুক শাশ্বত নদীর মেয়েটি।

চিনি আমি কীর্তিনাশা

চিনি আমি আগন্তুকের নাম।




মুক্ত করে দিলাম

প্রণব কুমার চক্রবর্তী 


স্বপ্ন তোকে আর পারছি না 

                            চোখের সামনে ধরে রাখতে ...


ভাবনা তোকেও পারবো না

মনের ভেতরে দু হাতে ধরে রাখতে

খুব বেশী দিন...


আলো গিলে খাওয়া 

অন্ধকারছন্ন মেঘের টুকরোটা 

ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে-

সামনে 

পেছনে 

আমার চারপাশে ......


যাহ্ মন 

তোকে পাখি করে উড়িয়ে দিলাম আজ

খুঁজে নিস 

উড়ে গিয়ে 

তোর বাসা বাঁধার মতো 

নোতুন কোনও 

সবুজ উন্মক্ত মাঠ 

শালিকের মতো গুটি গুটি পায়ে 

খুঁটে তুলে নিস 

ঘাসের নীচে লুকিয়ে থাকা 

                           জীবনের যথার্থ বর্ণমালা...



সময়গুলো বড় নিষ্ঠুর

জহিরুল হক বিদ্যুৎ


সময়গুলো বড় নিষ্ঠুর মমতায় হাত বাড়ায়

কখনো প্রচ- খরা হয়ে, কখনো ঘন কুয়াশা হয়ে।

দৃষ্টি নত হয়, দুর্ভেদ্য মনে হয় দূরের পারাপার

পথ হারায় কুহক চাদরে একঝাঁক শুভ্রকপোত।

বসুধায় কে আছে, যে বুক পেতে রাখে?

খুঁজি তারে, দেখি না তারে,

সে হারায় পথে-ঘাটে-প্রান্তরে, দূরের আবছা আলোয়

নিঃসঙ্গ খুঁজে যায় স্বর্গের অনন্ত সৌরভ,

চাতক পিপাসায় চেয়ে থাকে আকাশপানে

হায়! চোখের জলে কী স্বপ্নভাঙ্গার তৃষ্ণা মেটে?


স্বার্থের সূচকে বিশ্বে ভালোবাসার দরপতন

অসংখ্য কবিতারা দিয়ে যায় আত্মাহুতি;

শেষ ভগ্নাংশগুলো আর্তনাদ করে ওঠে বেদনায়

কবে ফুটবে ফুল কোন বসন্তে, শুদ্ধ মানবচেতনায়?

ঘৃণাগুলো আরো ঘৃণিত হয়ে উঠছে

বিষাদের কালোরঙে লেপ্টে গেছে পৃথিবীর মানচিত্র।

বর্ণবৈষম্যে আজো জ্বলে পুড়ে মরে মানুষ

জাতিগত ভেদে সাম্প্রদায়িক নীল-নকশা আঁকে;

স্বাস্থ্য নিয়ে স্বার্থ খোঁজে অসুস্থ পুঁজিবাদিরা

মেতে ওঠে বিধ্বংসী অনুজীবের উত্থান-পতনে;

হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অচেনা অনুক্ষণ

কে তারে চিনতে পারে বিক্ষুব্ধ নগরে?



বিশ্বাস বিশ্বাস খেলা

ইয়াসিন আরাফাত 


ক্যারম খেলায় অনেকের ভয় হতো আমার সাথে দাঁড়াতে।

বিস্তৃত হাওরের কিনারে ফুটবল খেলেছি বহু

গোল করিনি কখনও তবুও জিতেছি সতীর্থের গোলে।

আর অপ্রিয় খেলা ক্রিকেটে আমি পাকাপোক্ত নই।

এমন আরও অনেক খেলা খেলেছি আমি

গোল্লাছুট, চোর পুলিশ, বউচি, লাই, কপালটুকি আরও কত কী!

প্রচলিত বিধান অনুসারে কখনও হেরেছি কখনোবা জিতেছি।

সেইসব ভুলে গেছি শৈশবমূখর রাত পোহানোর আগে।

কেবল ভুলতে পারি না সহস্র রাত ধরে, বিশ্বাস বিশ্বাস খেলায়

মানুষকে বিশ্বাস করে জিততে পারিনি আজও!



মধ্যবিত্তনামা

মাজহারুল ইসলাম


তোমাকে লিখবো লিখবো করে

কত দিন কেটে যায় আমার!

সকাল দুপুর বিকেল গড়িয়ে

রাতের আঁধার সবকিছু কেমন গ্রাস করে নেয়

মোটা ভাত মোটা কাপড়ের অধিকারটুকু ও।


বেঁচে থাকার জন্য এই যা-

একমাত্র ‘মধ্যবিত্ত’ তকমাটা ছাড়া

আর কিছুই যে থাকে না !

তাইতো আগ-পিছ ভেবে-চিন্তে

তোমাকে আর লেখা হয় না!


জানো তো-

মধ্যবিত্তের জমি-জিরাত ঘর-দোর সবই থাকে

বাড়ির দক্ষিণকোণে শান বাঁধানো পুকুর থাকে

সুখ দুঃখ হাসি-কান্নার রক্ষণশীল গল্প থাকে

উন্মুখ প্রাপক থাকে শুধু প্রেরক থাকে মধ্যবিত্ত মননের !


নীরব নামতা

জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ


ফুরিয়ে যাওয়া একটা দুপুরের মত

ফুরিয়েই যাচ্ছি, কোনো রকম আছি;

এটাকে বেঁচে থাকা বলে; ভালো থাকা নয়।


কিছু খুঁচরো আলো ছুঁতে গিয়ে 

একশ জোনাকির মৃত্যু হয়েছিল; কেউ জানেনা-

সকালের ইতিহাস মনে রাখিনা; এভাবেও যে

পাঠ করে নিতে হয় নীরব নামতা; জানা ছিল না।


তুমি হয়ে গেলে আমার ভালো থাকা; বিরহ-

আমার নির্বাক কবিতার নির্মহ ঘ্রাণ;

তুমি ভাবো না কষ্মিন সময়ে-

অথচ কেউ না হওয়া এই আমি তোমার কেউ একজন।




 

ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ২১৫

ইপেপার : ধানশালিক : সংখ্যা ২১৫

 তারুণ্যের শিল্প সরোবর ।। বর্ষ ৮ম ।। সংখ্যা ২১৫,

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫ পৌষ ১৪৩১, ১৮ জমাদিউল সানী ১৪৪৫।