এক
গল্পের শুরুটা হতে পারতো চাঁদগঞ্জের জেলা কারাগার দিয়ে।
স্টেশনের একজন পাগল হত্যার দায়ে সাংবাদিক তারেক মাহমুদ হাজতের নবাগত কয়েদী। কিন্তু
ময়না নামের ভবঘুরে পাগলীর জন্ম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে। তাই ঘটনার বাহাত্তর ঘন্টা
পেরিয়ে গেলেও তারেক মাহমুদের হাতে এখনো হাতকড়া পড়েনি। তাছাড়া ময়নার মৃত্যু অনেকটা
অনিবার্য ছিলো বলে লোকের ধারণা। স্টেশনে পা ফেলেছে এমন কোনো মানুষ নেই, যে ময়নার
মৃত্যু চেয়ে খোদার কাছে অাপিল করেনি। সর্বশেষ পঁচিশটা দিন আর রাত সে প্লাটফর্মের
কংক্রিটের উপর পরে ছিলো। তার ওপর এক পলক দৃষ্টি রেখে অনেকেই বলতেন ‘এতো কষ্ট না
দিয়া আল্লায় অরে লইয়া যাইতে পারে না?’ একরাতে সত্যি সত্যিই ময়নাকে আল্লাহ্ নিয়ে
গেলো। কিন্তু আল্লাহর কাছে ময়নার এই চলে যাওয়াকে ভোলা দা স্বাভাবিকভাবে নিতে
পারেনি। স্টেশনের ঝাড়ুদার ভোলা লাশের মুখে চুনের মতো সাদা লালা দেখেছিলো। ফর্সা
রংয়ের ময়নার মুখটা ‘মরার পরে নাকি পাতিলের তলার মতো কালো দেখা গছে। পৃথিবী দেখার
পঞ্চাশ বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই তার ধারণা ‘ময়নারে কেউ বিষ খাওয়াইয়া মারছে’। কিন্তু ঝাড়ুদার
বলে ভোলার কথা কেউ আমলে নেয়নি।
